বাংলাদেশের আকাশে অক্টোবরে দেখা মিলবে পাঁচ মহাজাগতিক দৃশ্যের

অক্টোবরের বাকি দিনগুলোতে বাংলাদেশের রাতের আকাশে দেখা মিলতে পারে পাঁচটি আকর্ষণীয় মহাজাগতিক দৃশ্যের। এর মধ্যে রয়েছে ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি, শনি ও শুক্র গ্রহের অবস্থান, শিকারি পূর্ণিমা এবং মনোমুগ্ধকর কয়েকটি নক্ষত্রমণ্ডল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এসব দৃশ্য উপভোগের সুযোগ পাবেন আকাশপ্রেমীরা।
বিজ্ঞাপন
বছরের এই সময়ে বৃষ্টি ও মেঘের আনাগোনা তুলনামূলক কম থাকলে রাতের আকাশ পর্যবেক্ষণের পরিবেশ অনুকূল হয়ে ওঠে। ফলে তারা, গ্রহ ও উল্কাবৃষ্টি দেখার জন্য অক্টোবরের শেষভাগ বিশেষ আকর্ষণীয় হতে পারে।
বিশ্বের জনপ্রিয় জ্যোতির্বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘অ্যাস্ট্রোনমি’র ওয়েবসাইট অ্যাস্ট্রোনমি ডটকমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে চলতি মাসের বাকি দিনগুলোতে দেখা যেতে পারে এমন পাঁচটি মহাজাগতিক দৃশ্য তুলে ধরা হলো।
১. ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি
বিজ্ঞাপন
অক্টোবরের শেষভাগে রাতের আকাশের অন্যতম আকর্ষণ হতে যাচ্ছে ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি। বিখ্যাত হ্যালির ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধূলিকণা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের ফলে এই উল্কাবৃষ্টির সৃষ্টি হয়।
আগামী ২১ ও ২২ অক্টোবরের মধ্যবর্তী রাতে এটি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর কথা। ওই সময় চাঁদের আলো থাকলেও মধ্যরাতের আগেই চাঁদ অস্ত যাওয়ায় পরবর্তী সময়ে আকাশ তুলনামূলক অন্ধকার থাকবে। ফলে গভীর রাত থেকে ভোর হওয়ার আগপর্যন্ত উল্কাবৃষ্টি পর্যবেক্ষণের ভালো সুযোগ তৈরি হতে পারে।
আকাশ পরিষ্কার ও আলোকদূষণমুক্ত থাকলে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১৫টি উল্কা দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা আবহাওয়া, পর্যবেক্ষণের স্থান এবং আকাশের স্বচ্ছতার ওপর নির্ভর করবে।
বিজ্ঞাপন
২. সন্ধ্যার আকাশে উজ্জ্বল থাকবে শনি
সেপ্টেম্বরে পৃথিবীর কাছাকাছি অবস্থানে আসার পর অক্টোবরের শেষভাগেও সন্ধ্যার আকাশে উজ্জ্বলভাবে দেখা যাবে শনি গ্রহকে। সূর্যাস্তের পর দক্ষিণ-পূর্ব আকাশে নজর রাখলে গ্রহটি শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
রাতের প্রথমভাগে শনি আকাশের অপেক্ষাকৃত উঁচু অবস্থানে থাকবে। পরে ধীরে ধীরে পশ্চিম দিগন্তের দিকে সরে যাবে। এর স্থির, হালকা হলুদ-সোনালি আভা গ্রহটিকে অন্য অনেক নক্ষত্র থেকে আলাদা করে চিনতে সাহায্য করবে।
বিজ্ঞাপন
খালি চোখে শনির অবস্থান দেখা গেলেও এর বলয় পর্যবেক্ষণের জন্য বাইনোকুলারের চেয়ে উপযুক্ত বিবর্ধনক্ষমতার টেলিস্কোপ বেশি কার্যকর। টেলিস্কোপের সাহায্যে গ্রহটির বলয় এবং এর বৃহত্তম উপগ্রহ টাইটান দেখার সুযোগও মিলতে পারে।
৩. পশ্চিম আকাশে ঝলমল করবে শুক্র
অক্টোবরের শেষ দুই সপ্তাহে সূর্যাস্তের পর পশ্চিম থেকে পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিম আকাশে উজ্জ্বল বিন্দুর মতো দেখা যেতে পারে শুক্র গ্রহকে। গোধূলির আলো কমে এলে আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল জ্যোতিষ্কগুলোর একটি হিসেবে এটি সহজেই নজরে পড়বে।
বিজ্ঞাপন
সূর্যাস্তের পর প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত দিগন্তের কিছুটা ওপরে শুক্রকে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গ্রহটি পর্যবেক্ষণের জন্য কোনো বিশেষ যন্ত্রের প্রয়োজন হবে না; পরিষ্কার আকাশে খালি চোখেই দেখা সম্ভব।
এদিকে বৃহস্পতিও অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে রাতের আকাশে নজর কাড়তে পারে। রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার দিকে পূর্ব দিগন্তে গ্রহটির উদয় দেখা যেতে পারে। তবে নির্দিষ্ট সময়ে এর অবস্থান পর্যবেক্ষণস্থল ও তারিখ অনুযায়ী কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।
৪. শিকারি পূর্ণিমা ও চাঁদের সঙ্গে শনির অবস্থান
বিজ্ঞাপন
অক্টোবরের শেষভাগে চাঁদের পূর্ণ অবয়ব ঘিরেও থাকবে বাড়তি আকর্ষণ। বছরের এই সময়ের পূর্ণিমা ‘হান্টার্স মুন’ বা শিকারি পূর্ণিমা নামে পরিচিত।
প্রকাশিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৫ ও ২৬ অক্টোবরের রাতে পূর্ণিমার চাঁদ দেখার সুযোগ থাকতে পারে। চাঁদের উজ্জ্বল সোনালি-সাদা আলো রাতের প্রকৃতিতে তৈরি করবে ভিন্ন আবহ। তবে চাঁদের রং দিগন্তের উচ্চতা, বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা ও ধুলিকণার উপস্থিতির কারণে পরিবর্তিত হতে পারে।
এ ছাড়া ২৪ অক্টোবরের দিকে চাঁদ ও শনিকে আকাশে কাছাকাছি অবস্থানে দেখা যেতে পারে। এই ধরনের মহাজাগতিক দৃশ্যকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় আপাত সংযোগ বলা হয়। পৃথিবী থেকে দেখতে কাছাকাছি মনে হলেও বাস্তবে দুটি জ্যোতিষ্কের মধ্যে দূরত্ব অনেক বেশি থাকে।
বিজ্ঞাপন
৫. দেখা মিলবে হেমন্তের নক্ষত্রমণ্ডল ও অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সির
অক্টোবরের শেষভাগে সন্ধ্যার আকাশে হেমন্তের পরিচিত নক্ষত্রমণ্ডলগুলোও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। বিশেষ করে পেগাসাস ও ক্যাসিওপিয়া নক্ষত্রমণ্ডল আকাশ পর্যবেক্ষণকারীদের আকর্ষণ করতে পারে।
১৮ থেকে ২০ অক্টোবরের দিকে অন্ধকার ও আলোকদূষণমুক্ত স্থান থেকে দুরবিন ব্যবহার করে অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সিকে আবছা আলোর মেঘের মতো শনাক্ত করার চেষ্টা করা যেতে পারে। তবে এটি দেখার জন্য পরিষ্কার আকাশ এবং পর্যবেক্ষণের উপযুক্ত পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ।
বিজ্ঞাপন
সন্ধ্যার পর পূর্ব-উত্তরপূর্ব আকাশে পেগাসাস নক্ষত্রমণ্ডলের চারটি উজ্জ্বল তারা দিয়ে তৈরি পরিচিত চারকোনা বিন্যাস খুঁজে পাওয়া সম্ভব। অন্যদিকে উত্তর আকাশে ইংরেজি ‘ডব্লিউ’ অক্ষরের মতো আকৃতির ক্যাসিওপিয়া নক্ষত্রমণ্ডল দেখা যাবে।
মহাকাশের এসব দৃশ্য উপভোগ করতে চাইলে শহরের কৃত্রিম আলো থেকে দূরে খোলা জায়গা বেছে নেওয়া ভালো। পাশাপাশি আকাশ পরিষ্কার আছে কি না, সেটিও খেয়াল রাখতে হবে। সঠিক সময়ে আকাশের দিকে নজর রাখলে অক্টোবরের বাকি দিনগুলো হতে পারে মহাজাগতিক বিস্ময় উপভোগের দারুণ সুযোগ।








