Logo

১ জানুয়ারি থেকে চালু হচ্ছে অবৈধ ফোন শনাক্তের ব্যবস্থা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ অক্টোবর, ২০২৬, ২০:৪৭
১ জানুয়ারি থেকে চালু হচ্ছে অবৈধ ফোন শনাক্তের ব্যবস্থা
ছবি : জনবাণী গ্রাফিক্স

অবৈধভাবে আমদানি করা, চোরাচালানের মাধ্যমে আনা ও ক্লোন মোবাইল ফোন শনাক্তে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে দুই ধাপে জাতীয় যন্ত্রপাতি শনাক্তকরণ নিবন্ধন ব্যবস্থা (এনইআইআর) চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এ উদ্যোগের মাধ্যমে অবৈধ হ্যান্ডসেটের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব ফাঁকি রোধ এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় (এমএফএস) জালিয়াতি প্রতিরোধের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মূল্যায়ন অনুযায়ী, অবৈধ মোবাইল ফোনের কারণে সরকার বছরে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। বিটিআরসির কমিশন সভায় উপস্থাপিত কার্যপত্রেও এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রথম ধাপে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে সচল ফোন

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে এনইআইআরের মূল কার্যক্রম চালু করা হবে। তবে এ পর্যায়ে হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিলের ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে না। বর্তমানে মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্কে সচল থাকা ফোনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে।

বিজ্ঞাপন

পাশাপাশি অনুমোদিত আমদানিকারক ও দেশীয় উৎপাদকদের কাছে অবিক্রিত হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বরের তথ্যও ব্যবস্থাটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে অবৈধভাবে আমদানি করা, চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে আনা এবং শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে বাজারজাত করা ফোন শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

দ্বিতীয় ধাপে উপযুক্ত সময়ে হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিলের ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ পর্যায়ে ফোনের মালিকানা যাচাই, ক্লোন হ্যান্ডসেট শনাক্ত এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় জালিয়াতি প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

আগের উদ্যোগে কেন পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি এনইআইআর

বিজ্ঞাপন

বিটিআরসির কমিশন সভায় সংস্থাটির স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্ট (এসএম) বিভাগের মহাপরিচালক এনইআইআর পুনরায় চালুর বিষয়ে বিস্তারিত কার্যপত্র উপস্থাপন করেন।

কার্যপত্রে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের ১ জুলাই পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবস্থা চালুর পর তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্তে অবৈধভাবে আমদানি করা ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করা এবং ক্লোন হ্যান্ডসেট প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো চালু করা হয়নি। ফলে এনইআইআর প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।

পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে বিটিআরসির এসএম বিভাগ। দুই ধাপে ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে সরকারের পূর্বানুমোদন পেতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে।

বিজ্ঞাপন

একাধিক পর্যায়ে এসেছে এনইআইআর চালুর সুপারিশ

অবৈধ হ্যান্ডসেটের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি রোধ, টেলিযোগাযোগ খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর তাগিদ দিয়ে আসছে।

২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর অবৈধ হ্যান্ডসেটের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে বিটিআরসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানায় এনবিআর। পরে ২০২৫ সালের ২৮ জুন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এ ব্যবস্থা পুনরায় চালুর পরিকল্পনায় প্রাথমিক অনুমোদন দেয়।

বিজ্ঞাপন

২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আন্তমন্ত্রণালয় সভায় দেশের সব নেটওয়ার্কে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি থাকলেও জনভোগান্তি এড়াতে ফোন বন্ধ করার গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো কার্যকর করা হয়নি।

২০২৬ সালের ৯ জুন নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আনুষ্ঠানিক চিঠিতে অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয় তুলে ধরে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর প্রয়োজনীয়তা জানায়। একই বছরের ২ জুলাই আইএমইআই, সিম নিবন্ধন এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় জালিয়াতির ঝুঁকি নিয়ে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায়ও ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর সুপারিশ করা হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ ২২ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের সভায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দুই ধাপে এনইআইআর চালুর সুপারিশ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

চুরি ও আর্থিক জালিয়াতি ঠেকাতেও গুরুত্ব

সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, অনিবন্ধিত, চোরাই ও ক্লোন হ্যান্ডসেট সংঘবদ্ধ অপরাধ, মোবাইল ফোন চুরি এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত প্রতিটি যন্ত্রের পরিচয় শনাক্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা প্রয়োজন বলে মনে করছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।

এনইআইআর কার্যকর হলে মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বরের মাধ্যমে হ্যান্ডসেট শনাক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে। এতে অবৈধ ফোনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং ক্লোন ডিভাইস শনাক্তের কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্য রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

২০২৯ সালের মধ্যে বন্ধ হবে ২জি-সমর্থিত ফোনের ব্যবহার

এদিকে, ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শুধু দ্বিতীয় প্রজন্মের (২জি) নেটওয়ার্ক-সমর্থিত মোবাইল হ্যান্ডসেটের ব্যবহার বন্ধে পর্যায়ক্রমিক রূপরেখাও অনুমোদন করেছে বিটিআরসি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এ ধরনের ফোনের অনুমোদন, উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণে বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।

এনইআইআর চালুর মাধ্যমে অবৈধ হ্যান্ডসেট শনাক্তের পাশাপাশি টেলিযোগাযোগ খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও সরকারি রাজস্ব সুরক্ষার উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD