Logo

মোবাইল টাওয়ারে বাড়ছে চুরি, বেশি ঝুঁকিতে ক্যাবল ও ব্যাটারি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২০:৫৯
মোবাইল টাওয়ারে বাড়ছে চুরি, বেশি ঝুঁকিতে ক্যাবল ও ব্যাটারি
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল টাওয়ার ও নেটওয়ার্ক স্থাপনা থেকে ক্যাবল, ব্যাটারি, রিমোট রেডিও ইউনিট (আরআরইউ) ও নেটওয়ার্ক কার্ড চুরির ঘটনা বেড়েছে। গত ২০ মাসে চার মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্ক স্থাপনা থেকে প্রায় ১৬ হাজার মিটার পাওয়ার ক্যাবল এবং দুই হাজারের বেশি ব্যাটারি চুরি হয়েছে বলে জানিয়েছে মোবাইল টেলিকম অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব)।

বিজ্ঞাপন

চুরি হওয়া সরঞ্জামের কারণে বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জাম প্রতিস্থাপন করতে অপারেটরদের অতিরিক্ত ব্যয়ও গুনতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) পাঠানো এক চিঠিতে এসব তথ্য জানিয়েছে অ্যামটব। গত ১৬ সেপ্টেম্বর সংগঠনটির মহাসচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জুলফিকার স্বাক্ষরিত চিঠিতে রাজধানীর বাড্ডা, মোহাম্মদপুর, লালবাগসহ নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, সাভার ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকার নেটওয়ার্ক স্থাপনায় চুরির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

অ্যামটবের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ক্যাবল ও ব্যাটারি চুরি হয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিটকের নেটওয়ার্ক স্থাপনা থেকে। এ সময়ে ৭ হাজার ৪৪২ মিটার ক্যাবল, ৫৮টি আরআরইউ, ২২টি নেটওয়ার্ক কার্ড ও ৭৯৩টি ব্যাটারি চুরি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে চুরি হয়েছিল ৬ হাজার ৭৪৯ মিটার ক্যাবল, ৭৬টি আরআরইউ, ১৮টি নেটওয়ার্ক কার্ড ও ৪৫২টি ব্যাটারি।

গ্রামীণফোনের চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ১৫৩ মিটার ক্যাবল, ৫১টি আরআরইউ, ছয়টি নেটওয়ার্ক কার্ড ও ১২৩টি ব্যাটারি চুরি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এসব সরঞ্জাম চুরির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৫০৭ মিটার, ৩৩টি, ৭৫টি ও ২৭টি।

বিজ্ঞাপন

রবি আজিয়াটার চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ২১১ মিটার ক্যাবল, ১৫৭টি আরআরইউ, ১০টি নেটওয়ার্ক কার্ড ও ২৭৮টি ব্যাটারি চুরি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে চুরি হয়েছিল ৪১৭ মিটার ক্যাবল, ৪৪টি আরআরইউ, ৪৮টি নেটওয়ার্ক কার্ড ও ২৫৩টি ব্যাটারি।

এদিকে বাংলালিংকের নেটওয়ার্ক স্থাপনা থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ১৮৯ মিটার ক্যাবল, ৪৮টি আরআরইউ, নয়টি নেটওয়ার্ক কার্ড ও ৫৩টি ব্যাটারি চুরি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে চুরি হয়েছিল ২৯১ মিটার ক্যাবল, ৪১টি আরআরইউ, ২৯টি নেটওয়ার্ক কার্ড ও ২৪টি ব্যাটারি।

অ্যামটব বলছে, এসব সরঞ্জাম চুরি হলে স্থানীয়ভাবে মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গ্রাহকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এর প্রভাব জরুরি যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেবার ওপরও পড়তে পারে। পাশাপাশি চুরি হওয়া সরঞ্জাম নতুন করে স্থাপন করতে অপারেটরদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর নিরাপত্তায় অপারেটররা বিভিন্ন ব্যবস্থা নিলেও সম্পদ সুরক্ষিত রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হলেও পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে সংঘবদ্ধ অপরাধ ঠেকাতে দ্রুত ও সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিটিআরসির হস্তক্ষেপ চেয়েছে অ্যামটব। চিঠির অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশ এবং ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজির কাছেও পাঠানো হয়েছে।

মোবাইল টাওয়ারের ব্যাটারি ও ক্যাবল চুরি বন্ধে জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ এক বিবৃতিতে বলেন, চুরি অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের নেটওয়ার্ক বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, মোবাইল টাওয়ার শুধু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্পদ নয়; এটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামোর অংশ। ব্যাংকিং, মোবাইল আর্থিক সেবা, ই-কমার্স, সরকারি-বেসরকারি ডিজিটাল সেবা এবং জরুরি যোগাযোগসহ দৈনন্দিন নানা কার্যক্রম মোবাইল নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল।

বিজ্ঞাপন

মহিউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় টাওয়ার সচল রাখতে ব্যাকআপ ব্যাটারি গুরুত্বপূর্ণ। এসব ব্যাটারি চুরি হলে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর টাওয়ার দ্রুত অচল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। একইভাবে ক্যাবল চুরি হলে সরাসরি নেটওয়ার্ক সেবায় বিঘ্ন ঘটতে পারে।

বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোবাইল অপারেটর ও টাওয়ার কোম্পানিগুলোর যৌথ উদ্যোগে ৪৫ হাজারের বেশি নেটওয়ার্ক টাওয়ার সচল রয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD