১১৬ অনলাইন জুয়ার সাইট বন্ধে বিটিআরসিকে তালিকা দিল সিআইডি

দেশজুড়ে অনলাইন জুয়া ও অবৈধ আর্থিক লেনদেনের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত ১১৬টি ওয়েবসাইট শনাক্ত করে সেগুলো বন্ধের জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছে তালিকা পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (১৭ মে) রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ। অনলাইন জুয়ার সাইট পরিচালনার মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া একটি চক্রের আট সদস্যকে ঘিরে তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
আরও পড়ুন: আজ ঢাকায় আসছেন কাতারের শ্রমমন্ত্রী
সংবাদ সম্মেলনে মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সিআইডির সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইউনিট নিয়মিতভাবে অনলাইনভিত্তিক অপরাধ পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষ করে অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণে সাইবার পেট্রোলিং কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, গত ১ মে থেকে ১৭ মে পর্যন্ত পরিচালিত বিশেষ সাইবার নজরদারিতে ১১৬টি জুয়ার ওয়েবসাইট শনাক্ত করা হয়েছে। এসব ওয়েবসাইটের তথ্য বিটিআরসির কাছে পাঠানো হয়েছে, যাতে দ্রুত সেগুলো বন্ধ করা যায়।
সিআইডির দাবি, অনলাইন জুয়ার আড়ালে সংঘবদ্ধ চক্র দেশের বাইরে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করছে। শুধু জুয়ার প্ল্যাটফর্ম পরিচালনাই নয়, মোবাইল ব্যাংকিং, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও বিভিন্ন ডিজিটাল পেমেন্ট চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের তথ্যও তদন্তে উঠে আসছে।
কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন জুয়ার বিস্তার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মেসেজিং অ্যাপ এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্যবহার করে তরুণদের টার্গেট করা হচ্ছে। সহজে অর্থ উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে অনেককে এসব প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হচ্ছে, যা সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
বিজ্ঞাপন
সিআইডি বলছে, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত নেটওয়ার্ক শনাক্তে প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া আট সদস্যের কাছ থেকে বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস, ব্যাংক লেনদেনের তথ্য ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো বিশ্লেষণ করে আরও জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ থেকে ৬ হাজার কর্মী নেবে দুবাই
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, অনলাইন জুয়া ও অর্থ পাচার প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে অবৈধ ওয়েবসাইট দ্রুত ব্লক করা এবং আর্থিক লেনদেন নজরদারিতে রাখতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, অনলাইনভিত্তিক অপরাধ দমনে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত হওয়া শুধু আইনত দণ্ডনীয় নয়, এটি ব্যক্তি ও পরিবারের জন্যও ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হতে পারে।








