Logo

আজ ঢাকায় আসছেন কাতারের শ্রমমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ মে, ২০২৬, ১৮:০৯
আজ ঢাকায় আসছেন কাতারের শ্রমমন্ত্রী
কাতারের শ্রমমন্ত্রী আলী বিন সাঈদ বিন সামিখ আল মাররি | ফাইল ছবি

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মধ্যে দুই দিনের সফরে আজ রবিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় পৌঁছাচ্ছেন কাতারের শ্রমমন্ত্রী আলী বিন সাঈদ বিন সামিখ আল মাররি। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এই সফরে বাংলাদেশ-কাতার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি শ্রমবাজার, প্রবাসী কর্মীদের নিরাপত্তা এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

প্রবাসী কল্যাণ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, কাতারের শ্রমমন্ত্রী একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছাবেন। সফরের প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্যে আয়োজিত এক নৈশভোজে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কাতারের শ্রমমন্ত্রীর একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই বৈঠকে বাংলাদেশ ও কাতারের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয় ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। একই সঙ্গে কাতারের সরকার ও জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সংহতির বার্তাও তুলে ধরা হবে।

বিজ্ঞাপন

সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি হবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে। আগামীকাল সোমবার দুপুরে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে দুই দেশের শ্রমমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি খাতেও। বিশেষ করে কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে বাংলাদেশি কর্মী যাওয়ার হার কমে এসেছে।

বর্তমানে কাতারে প্রায় সাড়ে চার লাখ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। বৈঠকে তাদের নিরাপত্তা, কল্যাণ এবং কর্মপরিবেশের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি কর্মী নেওয়ার অনুরোধও জানাবে ঢাকা।

বিজ্ঞাপন

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, কাতারে এখনো বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য বাজার উন্মুক্ত রয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত পরিস্থিতির কারণে সামগ্রিক শ্রমবাজারে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমন বাস্তবতায় এই সফর বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এর আগে চলতি বছরের মার্চে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির কাতার সফর করেন। সে সময় কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ আল মুরাইখি এবং শ্রমমন্ত্রী আলী বিন সামিখ আল মাররির সঙ্গে বৈঠক হয়েছিল। বর্তমান সফরকে সেই কূটনৈতিক যোগাযোগের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দুই লাখ ৮৯ হাজার ৫৭৮ জন বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে গেছেন। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬৭ হাজার কম।

বিজ্ঞাপন

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট ১১ লাখ ৩২ হাজার ৩৩৭ জন কর্মী বিদেশে চাকরির ছাড়পত্র পেয়েছিলেন। এর মধ্যে কাতারেই গিয়েছিলেন এক লাখ সাত হাজার ৬০৩ জন। তবে চলতি বছরে দেশটিতে কর্মী যাওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। গত বছরের মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে যেখানে ১৪ হাজার ৫৩২ জন কর্মী কাতারে গিয়েছিলেন, সেখানে এবার একই সময়ে গেছেন মাত্র চার হাজার ৭২৪ জন।

এদিকে অভিবাসনবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু) সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে উপসাগরীয় শ্রমবাজারে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

রামরুর তথ্য অনুযায়ী, ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার সময় কাতারপ্রবাসী বাংলাদেশিরা চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটিয়েছেন। অনেককে নিরাপত্তাজনিত কারণে কয়েকদিন ঘরের বাইরে বের হতেও দেওয়া হয়নি।

এমন পরিস্থিতিতে কাতারের শ্রমমন্ত্রীর বর্তমান ঢাকা সফরকে বাংলাদেশের শ্রমবাজার ও প্রবাসী কর্মীদের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD