ধনীর খাতায় নাম, বাস্তবে নিঃস্ব ভেনেজুয়েলা কেন ব্যর্থ রাষ্ট্র

ভেনেজুয়েলা কি ধনী, নাকি গরিব—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে এক গভীর বৈপরীত্যপূর্ণ বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়। কাগজে-কলমে ভেনেজুয়েলা বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ। কারণ দেশটির মাটির নিচে রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম প্রমাণিত তেলের মজুত—যা সৌদি আরবের চেয়েও বেশি। অথচ বাস্তবে এই তেলসমৃদ্ধ দেশটির সাধারণ মানুষ আজ বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র জীবনযাপন করছে। এমনটাই জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
বিজ্ঞাপন
দেশটির অর্থনীতির প্রধান স্তম্ভ তেল হলেও অতিরিক্ত তেল নির্ভরতাই তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০০০ সাল থেকে চলা অর্থনৈতিক মন্দা, সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজের আমলের অব্যবস্থাপনা এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেশটিকে দেউলিয়া করে দিয়েছে। এক সময়ের সমৃদ্ধ রাষ্ট্রটি এখন আকাশচুম্বী মুদ্রাস্ফীতি, অপরাধ এবং বেকারত্বের এক অন্ধকার গহ্বরে নিমজ্জিত। শনিবার (৩ জানুয়ারি) মার্কিন ডেল্টা ফোর্সের হাতে প্রেসিডেন্ট মাদুরোর আটক হওয়ার খবর এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার আয়ের প্রায় সম্পূর্ণটাই নির্ভর করে তেলের ওপর। কিন্তু গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দরপতন এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশটি বড় ধরনের রাজস্ব সংকটে পড়ে। যদিও ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের চাহিদা বাড়লে ভেনেজুয়েলা সাময়িকভাবে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিল, তবে সেই উন্নতি স্থায়ী হয়নি।
বিজ্ঞাপন
দেশটির মুদ্রার অবমূল্যায়ন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এক প্যাকেট পাউরুটি কিনতে অনেক সময় ব্যাগভর্তি টাকা নিয়ে যেতে হয়। খাদ্য ও ওষুধের সংকট নিত্যদিনের ঘটনা। দারিদ্র্য ও ক্ষুধার তাড়নায় গত কয়েক বছরে হাজার হাজার ভেনেজুয়েলান দেশ ছেড়ে পালিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন।
বেকারত্ব, সহিংসতা ও অপরাধ এখন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। জীবনের মৌলিক চাহিদা পূরণ করাই যেখানে কঠিন, সেখানে উন্নত জীবনের স্বপ্ন বিলাসে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষ এখন কেবল টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিজ্ঞাপন
বিশ্লেষণে বলা হয়, প্রাকৃতিক সম্পদের বিচারে ভেনেজুয়েলা নিঃসন্দেহে একটি ধনী দেশ। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি ও ভুল অর্থনৈতিক নীতির কারণে সেই সম্পদ কখনোই সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজে আসেনি। আজ যখন মার্কিন অভিযানের প্রেক্ষাপটে দেশের প্রেসিডেন্টই অনিশ্চিত অবস্থায়, তখন ভেনেজুয়েলা শুধু একটি অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু রাষ্ট্র নয়—বরং নেতৃত্বহীন ও গভীর সংকটে নিমজ্জিত একটি ভূখণ্ডে পরিণত হয়েছে।








