ভারতসহ তিন দেশের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাবে সম্মতি ট্রাম্পের

রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি তেল কেনার অভিযোগে ভারত, চীন ও ব্রাজিলের ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সংক্রান্ত একটি নিষেধাজ্ঞা বিলের বিষয়ে ট্রাম্পের সমর্থনের কথা নিশ্চিত করেছেন মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের প্রভাবশালী সদস্য লিন্ডসে গ্রাহাম।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে গ্রাহাম জানান, ‘গ্রাহাম–ব্লুমেন্থাল নিষেধাজ্ঞা বিল’ নামে পরিচিত এই প্রস্তাবিত আইনটির বিষয়ে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা হয়েছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট এতে সম্মতি প্রকাশ করেছেন।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভারত ও ব্রাজিলের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ এবং চীনের ওপর ৩০ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক আরোপ করা আছে। তবে নতুন এই বিলটি পাস হলে, রাশিয়ার কাছ থেকে জেনেশুনে তেল, গ্যাস বা ইউরেনিয়াম কেনে—এমন দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
আরও পড়ুন: দার্জিলিংয়ে তাপমাত্রা নামল ১.৫ ডিগ্রিতে
বিজ্ঞাপন
বিলটিতে বলা হয়েছে, যারা রাশিয়ান জ্বালানি কিনে কার্যত প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ‘যুদ্ধযন্ত্রে জ্বালানি জোগাচ্ছে’, তাদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওইসব দেশের পণ্যের ওপর কমপক্ষে ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিধান রাখা হয়েছে। এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হলো রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে আরও দুর্বল করে দেওয়া।
রিপাবলিকান দলের সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এবং বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল যৌথভাবে এই বিলটি তৈরি করেছেন। এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, রাশিয়া থেকে নিয়মিত ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে তেল, গ্যাস, ইউরেনিয়াম কিংবা অন্যান্য কৌশলগত পণ্য কেনা দেশগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেবে।
বিবৃতিতে গ্রাহাম বলেন, এই বিলটি সঠিক সময়েই পাস হওয়া দরকার। ইউক্রেন শান্তির জন্য ছাড় দিচ্ছে, অথচ পুতিন কেবল কথার ফুলঝুরি দিচ্ছেন। বাস্তবে রাশিয়ার সেনারা এখনো নিরীহ মানুষ হত্যা করে যাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, আগামী সপ্তাহ থেকেই বিলটি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী, প্রথমে বিলটি পাস হতে হবে নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে। সেখানে অনুমোদন মিললে তা যাবে উচ্চকক্ষ সিনেটে। সিনেটেও পাস হলে বিলটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রেসিডেন্টের দপ্তরে পাঠানো হবে। প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের পরই এটি আইনে পরিণত হয়ে কার্যকর হবে।
বিজ্ঞাপন
এই বিল পাস হলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা, বিশেষ করে ভারত, চীন ও ব্রাজিলের মতো বড় অর্থনীতির দেশগুলোর ক্ষেত্রে।








