বিশ্বব্যবস্থা ধ্বংস করছে যুক্তরাষ্ট্র : জার্মান প্রেসিডেন্ট

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধে বিরল ও তীব্র সমালোচনা করেছেন জার্মানির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টেইনমায়ার। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নীতিগত অবস্থান বিশ্বব্যবস্থাকে এমন এক বিপজ্জনক পথে ঠেলে দিচ্ছে, যেখানে আন্তর্জাতিক আইন ও নৈতিকতার পরিবর্তে শক্তিই হয়ে উঠছে শেষ কথা।
বিজ্ঞাপন
বুধবার গভীর রাতে আয়োজিত এক সিম্পোজিয়ামে দেওয়া বক্তব্যে স্টেইনমায়ার বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি যেন কোনো ‘ডাকাতের আস্তানা’য় পরিণত না হয়— যেখানে নীতিহীন শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো নিজেদের ইচ্ছামতো দুর্বলদের অধিকার কেড়ে নেয়। বিশ্ববাসীকে এই প্রবণতার বিরুদ্ধে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
জার্মান প্রেসিডেন্ট বলেন, যে যুক্তরাষ্ট্র এক সময় আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা ও নিয়মভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রধান কারিগর ছিল, আজ তারাই সেই ব্যবস্থার ভিত নড়িয়ে দিচ্ছে। আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের কাছ থেকেই মূল্যবোধের এমন অবক্ষয় দেখা যাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
সাবেক এই জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র বর্তমানে নজিরবিহীন এক আক্রমণের মুখে পড়েছে। শক্তির রাজনীতি, হুমকি ও চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ আদায়ের প্রবণতা বাড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি।
বিশ্লেষকদের মতে, স্টেইনমায়ারের এই অস্বাভাবিকভাবে কড়া বক্তব্যের মধ্যে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার সাম্প্রতিক প্রচেষ্টাসহ যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা হস্তক্ষেপমূলক নীতির প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত বিশ্বকে এমন এক অরাজকতা থেকে রক্ষা করা, যেখানে পুরো একটি দেশ বা অঞ্চলকে গুটিকয়েক শক্তিশালী রাষ্ট্র নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলে মনে করে।
আরও পড়ুন: দার্জিলিংয়ে তাপমাত্রা নামল ১.৫ ডিগ্রিতে
বিজ্ঞাপন
জার্মানিতে প্রেসিডেন্টের পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক ও আলংকারিক হলেও স্টেইনমায়ারের বক্তব্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কারণ তিনি প্রথাগত দলীয় রাজনীতির সীমাবদ্ধতার বাইরে থেকে তুলনামূলক স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারেন।
এদিকে সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর জার্মান জনগণের আস্থা ক্রমশ কমছে। বিপরীতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের ওপর জার্মানির প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মানুষের আস্থা রয়েছে, যা ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার দিকেই বার্লিনের জনমত ঝুঁকে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।








