ইউক্রেনে রুশ সেনারা ‘ঈশ্বরের লক্ষ্য’ বাস্তবায়ন করছে : পুতিন

ইউক্রেনে যুদ্ধরত রুশ সেনারা একটি ‘পবিত্র দায়িত্ব’ পালন করছে এবং তারা ঈশ্বর নির্ধারিত লক্ষ্য বাস্তবায়ন করছে—এমন মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বুধবার ইউক্রেনে সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া রুশ সেনাদের শিশু ও কিশোর বয়সী সন্তানদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এই মন্তব্য করেন।
বিজ্ঞাপন
মস্কোর উপকণ্ঠে অবস্থিত সেইন্ট জর্জ দ্য ভিক্টোরিয়াস গির্জায় আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে পুতিন বলেন, যেসব রুশ সেনা বর্তমানে ইউক্রেনে যুদ্ধরত রয়েছেন, তাদের সন্তানদের নিজেদের বাবা-মা ও স্বজনদের নিয়ে গর্ব করা উচিত। কারণ রাশিয়ার জনগণ সবসময় তাদের যোদ্ধাদের সম্মান ও গৌরবের চোখে দেখে।
পুতিন বলেন, তোমাদের বাবা-মা এবং আত্মীয়স্বজন যারা এখন যুদ্ধে রয়েছেন, তারা আমাদের দেশের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত। এজন্য তোমাদের গর্বিত হওয়া উচিত। রাশিয়ার মানুষ সবসময় তাদের যোদ্ধাদের নিয়ে গর্ব করে।
বিজ্ঞাপন
ধর্মীয় ভাষ্য ব্যবহার করে রুশ প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, আমরা প্রায়ই ঈশ্বরকে ‘ত্রাণকর্তা’ বলে ডাকি, কারণ তিনি আমাদের রক্ষা করেন। আমাদের যোদ্ধারাও ঠিক তেমনই। তারা ঈশ্বরের নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের পিতৃভূমি ও জনগণকে রক্ষার দায়িত্ব পালন করছে।
ইউক্রেনে চলমান সামরিক অভিযানের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা সেখানে যা করছি, তা একটি পবিত্র লক্ষ্যের দিকে পরিচালিত হচ্ছে। এই লক্ষ্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন ঈশ্বর নিজেই। আর আমাদের যোদ্ধারা সেই ঈশ্বরের লক্ষ্য পূরণ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধকে নৈতিক ও ধর্মীয় বৈধতা দেওয়ার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই পুতিন এমন বক্তব্য দিয়েছেন। যুদ্ধকে ‘পবিত্র দায়িত্ব’ হিসেবে উপস্থাপন করে রাশিয়ার অভ্যন্তরে জনসমর্থন ধরে রাখার কৌশল হিসেবে এ ধরনের ভাষ্য ব্যবহার করছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
প্রসঙ্গত, ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করা এবং ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদের জন্য তৎপরতার জেরে কয়েক বছর ধরে মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। সেই উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতেই ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলমান এই যুদ্ধ এখনো থামেনি।
আরও পড়ুন: দার্জিলিংয়ে তাপমাত্রা নামল ১.৫ ডিগ্রিতে
এদিকে, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকে এই সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধবিরতি ও শান্তিচুক্তির বিষয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চালাচ্ছে ওয়াশিংটন।
বিজ্ঞাপন
তবে ট্রাম্পের এই উদ্যোগের মধ্যেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউরোপীয় মিত্রদের কাছে নতুন করে আর্থিক ও সামরিক সহায়তার জন্য তদবির শুরু করেছেন। ফলে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা।
সূত্র : আরটি








