নেপালে ভয়াবহ সহিংসতা-মসজিদে ভাঙচুর, সীমান্ত বন্ধ করলো ভারত

ভারতের সীমান্তঘেঁষা নেপালের একাধিক এলাকায় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। মসজিদে ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে উচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে নেপালের সঙ্গে নিজেদের সীমান্ত সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, মসজিদে হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেপালের পারসা জেলার সীমান্ত শহর বীরগঞ্জে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে নেমে আসে। শুরুতে শান্তিপূর্ণ থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়। এর পরপরই বীরগঞ্জ শহরে কারফিউ জারি করে প্রশাসন।
বিজ্ঞাপন
বীরগঞ্জ শহরটি ভারতের বিহারের রক্সৌল জেলার একেবারে কাছাকাছি হওয়ায় সহিংসতার প্রভাব সীমান্ত এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
নেপালের ধানুশা জেলার কামালা পৌরসভায় হায়দার আনসারি ও আমানত আনসারি নামে দুই ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওটিতে ধর্মীয় অবমাননাকর মন্তব্য রয়েছে—এমন অভিযোগ ওঠার পর সেটি দ্রুত ধানুশা ও পারসা জেলায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় বাসিন্দারা ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভিডিওটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য হুমকি তৈরি করেছিল। তবে এর কিছুক্ষণ পরই কামালার সাখুয়া মারান এলাকায় একটি মসজিদে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে, যা উত্তেজনাকে আরও ভয়াবহ রূপ দেয়।
বিজ্ঞাপন
মসজিদে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। বিক্ষোভ চলাকালে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে উঠলে বিক্ষোভকারীরা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাথর নিক্ষেপ করে এবং স্থানীয় থানায় ভাঙচুর চালায়।
নেপালের পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অর্ধডজনের বেশি কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করতে হয়েছে। বর্তমানে নিরাপত্তা বাহিনী বীরগঞ্জ ও আশপাশের এলাকাগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে।
নেপালে সহিংসতার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় ভারত জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে নেপাল-ভারত সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। জরুরি পরিষেবা ছাড়া সাধারণ মানুষের সীমান্ত পারাপার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি) মৈত্রী সেতুসহ সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করেছে। সীমান্ত পার হওয়া প্রত্যেককে কড়াভাবে তল্লাশি করা হচ্ছে। নিরাপত্তা জোরদারে ডগ স্কোয়াডও মোতায়েন করা হয়েছে।
এসএসবি সূত্র জানায়, মৈত্রী সেতুর পাশাপাশি সহাদেওয়া, মহাদেওয়া, পান্তোকা, সিওয়ান টোলা ও মুশারওয়া এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তে যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রতিটি চলাচল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
সহিংস পরিস্থিতির কারণে নেপালে কর্মরত বহু ভারতীয় পরিযায়ী শ্রমিক দেশে ফিরতে শুরু করেছেন। সীমান্তে অপেক্ষমাণ ভারতীয় নাগরিক রাকেশ এনডিটিভিকে বলেন, বীরগঞ্জে দোকানপাট ও বাজার সম্পূর্ণ বন্ধ। এমন অবস্থায় সেখানে থাকা অর্থহীন।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার কাজে ফিরবেন, তবে এখন সেখানে থাকা নিরাপদ নয়।
নেপালের প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। তবে উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা শিথিল করা হবে না।
বিজ্ঞাপন
এই সহিংসতা দক্ষিণ এশিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: এনডিটিভি








