সংসদ ভেঙে দিলেন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি

আগাম নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে জাপানের সংসদ ভেঙে দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। এর মধ্য দিয়ে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পথ পরিষ্কার হলো। শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে নিম্নকক্ষ ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা আসে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সংসদের স্পিকার একটি সরকারি চিঠি পাঠ করে শোনান, যার মাধ্যমে নিম্নকক্ষ ভেঙে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এর আগে গত সোমবারই প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি আগাম নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন।
বিজ্ঞাপন
জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় ও প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জনগণের সরাসরি ম্যান্ডেট নিতে চাইছেন। এসব নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আরও শক্ত রাজনৈতিক সমর্থন প্রয়োজন বলেই আগাম নির্বাচনের পথে হাঁটছেন তিনি।
বর্তমানে তাকাইচির লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) এবং জাপান ইনোভেশন পার্টি (জেআইপি)-এর জোট সরকার সংসদের নিম্নকক্ষে খুব অল্প ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে। একের পর এক কেলেঙ্কারি ও জনসমর্থন হ্রাসের চাপে থাকা এলডিপির অবস্থানও এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
বিজ্ঞাপন
ত্সুকুবা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি অধ্যাপক হিদেহিরো ইয়ামামোতো বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভার প্রতি বর্তমান জনসমর্থন আদৌ এলডিপির ভোটে রূপ নেবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। তার মতে, সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরে জাপানে মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমেছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে সরকারের ভর্তুকিই এর প্রধান কারণ। তবে সামগ্রিকভাবে দুর্বল ইয়েনের কারণে আমদানিপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের চাপ কমেনি।
মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে জনঅসন্তোষই মূলত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার পতনের অন্যতম কারণ ছিল। গত অক্টোবরে তার স্থলাভিষিক্ত হয়ে ক্ষমতায় আসেন তাকাইচি।
বিজ্ঞাপন
বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের প্রতীক হয়ে উঠেছে চালের বাজার। সরকারি তথ্যে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে চালের দাম আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছিল। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা কমেছে, তবুও ডিসেম্বরে চালের দাম আগের বছরের তুলনায় ৩৪ শতাংশের বেশি ছিল।
সব মিলিয়ে জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা—এই তিন ইস্যুই আসন্ন নির্বাচনে জাপানের রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।








