Logo

মধ্যপ্রাচ্যের সংকট: মার্কিন তেলের দিকে ঝুঁকছে এশিয়া

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১১ মার্চ, ২০২৬, ১৩:৪৭
মধ্যপ্রাচ্যের সংকট: মার্কিন তেলের দিকে ঝুঁকছে এশিয়া
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে এখন বিকল্প উৎস হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের তেল ও গ্যাসের দিকে ঝুঁকছে এশিয়ার দেশগুলো। ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন জ্বালানির চাহিদা দ্রুত বেড়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ‘আর্গাস মিডিয়া’র তথ্য অনুযায়ী, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে এশিয়ায় সরবরাহ হওয়া মার্কিন ‘লাইট সুইট ক্রুড’ তেলের দাম প্রায় ৪৭ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১৫ ডলারে।ৎ

একই সঙ্গে বেড়েছে মার্কিন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের ব্যয়ও। তথ্য অনুযায়ী, এলএনজি পরিবহনের ভাড়া প্রায় চার গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ইউরোপের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া অন্তত চারটি এলএনজি ট্যাংকারকে পথ পরিবর্তন করে এশিয়ার বাজারে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আর্গাস মিডিয়ার এশিয়া অঞ্চলের প্রধান ফাবিয়ান এনজি জানান, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জাপানি শোধনাগারগুলো আগামী জুনে সরবরাহের জন্য প্রায় ৯০ লাখ ব্যারেল মার্কিন অপরিশোধিত তেল কিনেছে। তবে বাড়তি দামের কারণে এশিয়ার অনেক দেশ এখনই বড় চুক্তিতে যাচ্ছে না; তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

এদিকে, এশিয়ার দেশগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি যে ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে আসে, সেখানে উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়ছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, মঙ্গলবার ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের কাছ থেকে তারা ইরানের ১৬টি মাইন স্থাপনকারী জাহাজ ধ্বংস করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, প্রণালিতে মাইন স্থাপনের পরিণাম ভালো হবে না।

বিজ্ঞাপন

সংঘাতের কারণে জ্বালানির প্রধান উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো এখন তাদের মজুত করা তেলের ওপর নির্ভর করছে, যা বড়জোর কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে। তবে গবেষণা সংস্থা ‘এনার্জি অ্যাসপেক্টস’-এর বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণ করার মতো উৎপাদন সক্ষমতা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নেই।

প্রতিষ্ঠানটির বিশ্ব গ্যাসবিষয়ক প্রধান লিভিয়া গ্যালারাতি বলেন, এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় এশিয়ার বেশিরভাগ দেশ আপাতত নিজেদের মজুত জ্বালানি ব্যবহার করছে। পাশাপাশি অনেক দেশ গ্যাসের বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার, শিল্পকারখানায় উৎপাদন কমানো কিংবা বিদ্যুৎ ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণের মতো পদক্ষেপ নিয়ে জ্বালানির চাহিদা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।

সূত্র : সিএনএন।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD