Logo

ইরানের দিকে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজের বহর

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:০৮
ইরানের দিকে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজের বহর
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজের বহর অগ্রসর হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, এই সামরিক শক্তি ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়বে না। একই সঙ্গে ইরানকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি দেশটিতে বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ রাখা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু না করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ কয়েকটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাবে। পাশাপাশি ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে, যা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করতে সহায়ক হবে।

একজন কর্মকর্তা জানান, এই সামরিক মোতায়েনের ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে আরও কৌশলগত বিকল্প থাকছে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা জোরদার করা যাবে, তেমনি প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যৎ সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতাও বাড়বে।

বিজ্ঞাপন

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে অংশগ্রহণ শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ান-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “অনেক জাহাজ ওই দিকে যাচ্ছে। এটা কেবল সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। আমি চাই না কিছু ঘটুক, তবে আমরা ইরানকে খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের একটি নৌবহর ওই অঞ্চলে যাচ্ছে, যদিও আশা করছি সেটি ব্যবহার করার প্রয়োজন হবে না।”

গত সপ্তাহে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে এসব যুদ্ধজাহাজ যাত্রা শুরু করে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন নিয়ে কঠোর অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে বিক্ষোভকারীদের হত্যার ঘটনায় ট্রাম্প একাধিকবার ইরানের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলেন। যদিও গত সপ্তাহে বিক্ষোভ কিছুটা প্রশমিত হয়। সে সময় ট্রাম্প তার অবস্থান কিছুটা নরম করে দাবি করেন, তার হস্তক্ষেপের কারণেই বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার তিনি আবারও সেই দাবি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, তার হুমকির পর ইরান প্রায় ৮৪০টি ফাঁসি কার্যকর করা বাতিল করেছে। ট্রাম্প বলেন, “আমি স্পষ্ট করে বলেছিলাম—যদি ফাঁসি কার্যকর করা হয়, তাহলে এমন প্রতিক্রিয়া আসবে, যা তারা আগে কখনও দেখেনি।”

তিনি আরও দাবি করেন, ফাঁসি কার্যকরের মাত্র এক ঘণ্টা আগে ইরান সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে, যা তিনি একটি ‘ইতিবাচক সংকেত’ হিসেবে দেখছেন।

বিজ্ঞাপন

অতীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর নজির রয়েছে। যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেগুলো ছিল প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা। তবে গত বছর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সামরিক সমাবেশ ঘটিয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প পুনরায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জুনে হামলার পর ইরান যদি আবার পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। তিনি বলেন, “যদি তারা আবার চেষ্টা করে, তবে আমরা অন্য জায়গাতেও যেতে পারি—এবং সেখানেও সহজেই আঘাত হানতে পারব।”

বিজ্ঞাপন

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে মার্কিন সামরিক মোতায়েন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে আবারও স্পর্শকাতর পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

জেবি/জেএইচআর
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD