ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে, জানালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আরব সাগরে মার্কিন বাহিনীর একটি অভিযানে ইরানের ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার প্রেক্ষাপটে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে বর্তমানে যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে। তবে আলোচনার স্থান, পদ্ধতি কিংবা অংশগ্রহণকারীদের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে তিনি অস্বীকৃতি জানান। তার ভাষ্য, বিভিন্ন জায়গায় এ আলোচনা হচ্ছে এবং ইরানও কোনো সমাধানের পথে এগোতে আগ্রহী।
ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, অতীতে ইরানকে একটি সুযোগ দেওয়া হলেও তারা সেটি কাজে লাগাতে পারেনি। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত ‘মিডনাইট হ্যামার’ অভিযানের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। ওই অভিযানে মার্কিন বিমান ও নৌবাহিনী যৌথভাবে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায় বলে জানান ট্রাম্প। তার মতে, তেহরান আর এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে চায় না।
বিজ্ঞাপন
দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক চাপ বাড়িয়ে আসছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে দেশটির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অভিযোগ তুলে ইরানকে সতর্ক করে আসছেন তিনি। এ প্রেক্ষাপটে মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের উদ্যোগে উত্তেজনা প্রশমনের কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, মর্যাদা, বিচক্ষণতা ও বাস্তবতার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমতাভিত্তিক আলোচনা এগিয়ে নিতে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, যেকোনো আলোচনা ইরানের জাতীয় স্বার্থের কাঠামোর মধ্যেই হতে হবে।
বিজ্ঞাপন
এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন থেকে উড্ডয়ন করা একটি এফ–৩৫সি যুদ্ধবিমান ইরানের তৈরি একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। সেন্টকমের মুখপাত্র টিম হকিন্স বলেন, বিমানবাহী রণতরী ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
মার্কিন বাহিনীর দাবি, ড্রোনটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থানরত রণতরীর দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে আসছিল। উত্তেজনা কমাতে বিভিন্ন সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার পরও সেটি অগ্রসর হতে থাকায় গুলি করে ভূপাতিত করা হয়। সে সময় রণতরীটি ইরানের দক্ষিণ উপকূল থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দূরে ছিল বলে জানানো হয়েছে।








