মাদুরোর মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল ভেনেজুয়েলা

ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর মুক্তির দাবিতে রাজধানী কারাকাসে বড় ধরনের বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে তাকে আটক করার অভিযোগের পর মঙ্গলবার হাজারো সমর্থক রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান।
বিজ্ঞাপন
বিক্ষোভকারীদের স্লোগান ছিল— “ভেনেজুয়েলায় নিকোলাসকে দরকার।” মিছিলজুড়ে অনেকের হাতে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের ছবি দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে ফ্লোরেসকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সরকারি আহ্বানে আয়োজিত এ মিছিল কয়েকশ মিটারজুড়ে বিস্তৃত ছিল; ট্রাকে উচ্চস্বরে সংগীত বাজিয়ে কর্মসূচির পরিবেশ আরও জোরালো করা হয়।
অংশগ্রহণকারীদের বড় একটি অংশ ভেনেজুয়েলার পতাকা ও ‘শাভিস্তা’ আন্দোলনের প্রতীকী লাল পোশাক পরেছিলেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজের রাজনৈতিক আদর্শ থেকে উৎসারিত এই ধারার প্রতি সমর্থন জানাতেই এমন উপস্থিতি বলে মনে করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
পৌরসভা কর্মচারী হোসে পেরদোমো বলেন, পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি, ক্ষোভ ও দুঃখ—সব মিলিয়ে তীব্র আবেগ কাজ করছে। তবে তিনি অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সিদ্ধান্তগুলোর প্রতি সমর্থনও জানান। তার ভাষায়, “আগে হোক বা পরে, আমাদের প্রেসিডেন্টকে মুক্তি দিতেই হবে।”
জাতীয় পরিষদের ডেপুটি ও মাদুরোর ছেলে নিকোলাস মাদুরো গুয়েরা বলেন, ভেনেজুয়েলার জনগণের মধ্যে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী মনোভাব গভীরভাবে প্রোথিত।
এদিকে, রদ্রিগেজকে ঘিরেও কূটনৈতিক আলোচনা বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের নির্দিষ্ট শর্ত মানলে রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে প্রবেশাধিকার বিষয়টি সেখানে গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
চাপের মুখে রদ্রিগেজ প্রশাসন রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং রাষ্ট্রীয় হাইড্রোকার্বন খাতে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করেছে বলে জানা গেছে। ২০১৯ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পর সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের যোগাযোগ পুনরুজ্জীবিত হওয়ার আভাসও মিলছে। কারাকাসে মার্কিন দূত লরা ডোগুর আগমন সে ইঙ্গিতই দেয়।
ডোগু এক ভিডিও বার্তায় জানান, ভেনেজুয়েলার সংকট নিরসনে তিন ধাপের একটি পরিকল্পনা রয়েছে, যার লক্ষ্য একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন।
বিজ্ঞাপন
এদিকে, রাজনৈতিক বন্দিদের স্বজন ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরাও পৃথক বিক্ষোভ করে সাধারণ ক্ষমা আইন দ্রুত পাসের দাবি তুলেছেন। রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, একটি সাধারণ ক্ষমা আইন প্রণয়নে কাজ চলছে, যা রাজনৈতিক সহিংসতার সময়কার পরিস্থিতি সামাল দিতে সহায়ক হবে। তবে আইনটি এখনো সংসদে উত্থাপিত হয়নি।
বিরোধী নেতা স্ট্যালিন গনজালেস আশা প্রকাশ করেছেন, সাধারণ ক্ষমা আইন শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও গণতন্ত্রের পথ খুলে দিতে পারে।
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের বিতর্কিত পুনর্নির্বাচন ঘিরে বিক্ষোভ দমনে গত বছর ব্যাপক ধরপাকড় চালানো হয়। চলতি বছরের শুরুতে মাদুরোর পতনের পর থেকে বিরোধী দল নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে।
সূত্র: এএফপি








