সংঘাতের শঙ্কার মধ্যেই বৈঠকে বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ওমানের রাজধানী মাস্কাটে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দেশ দুটি থেকে শীর্ষ কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশ নেবেন।
বিজ্ঞাপন
ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, যিনি সম্প্রতি জানিয়েছেন, দেশের সশস্ত্র বাহিনী ‘প্রস্তুত’ অবস্থায় আছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার আলোচনায় অংশ নেবেন।
গত জুনে ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের পর মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে এটি প্রথম সরাসরি বৈঠক। প্রাথমিকভাবে এই বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল ইস্তাম্বুলে, মিশর, তুরস্ক ও কাতারের মধ্যস্থতায়। তবে শেষ মুহূর্তে ইরান বৈঠকের স্থান পরিবর্তন করে ওমানে রাখার অনুরোধ জানিয়েছে এবং আলোচনাটি শুধুমাত্র দু’দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চেয়েছে।
বিজ্ঞাপন
গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন এবং সহিংস পদক্ষেপের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও মানবাধিকার উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে এই আলোচনার সূচনা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাব অনুযায়ী, বিক্ষোভ দমনের সময় হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং ৫০ হাজারেরও বেশি গ্রেফতার হয়েছেন।
আলোচনার মূল বিষয় হবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, আঞ্চলিক প্রভাবশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীসমূহে সমর্থন এবং নাগরিকদের প্রতি আচরণ। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ইউরেনিয়ামের সমৃদ্ধি হ্রাস ও পারমাণবিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা আরোপ করতে, তবে ইরান দাবি করছে যে আলোচনা শুধুমাত্র পারমাণবিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
বিজ্ঞাপন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে অঞ্চলে হাজার হাজার সেনা এবং নৌবহর পাঠিয়েছেন, যা যুদ্ধের হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিক্রিয়ায় ইরানও শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিয়েছে, এবং মধ্যপ্রাচ্য ও ইসরায়েলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় আঘাতের সম্ভাবনার সতর্কবার্তা দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর বর্তমান ইরানি সরকার এখন সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। বিক্ষোভ দমন ও আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমাতে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা চেষ্টা করছেন।
ইরান বারবার জানিয়েছে, তাদের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং আঞ্চলিক প্রক্সি সমর্থন বন্ধ করা তাদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। তবে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে তারা ছাড় দিতে প্রস্তুত হতে পারে, যার মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের জন্য আঞ্চলিক কনসোর্টিয়ামের সম্ভাবনা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আঞ্চলিক দেশগুলোও উদ্বিগ্ন যে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ইরানে আরও বিস্তৃত সংঘাত বা দীর্ঘমেয়াদী বিশৃঙ্খলার দিকে নিয়ে যেতে পারে। তাই কেবল বিমান শক্তি ব্যবহারে সমস্যা সমাধান সম্ভব হবে না বলে সতর্ক করেছে তারা।








