বাবার ধর্ষণে গর্ভবতী মেয়ে, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল চাঞ্চল্যকর সত্য

ভারতের মহারাষ্ট্রের মুম্বাইয়ে ভয়াবহ পারিবারিক নির্যাতনের একটি ঘটনায় ২০ বছর বয়সী এক বাকপ্রতিবন্ধী ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী তরুণী গর্ভবতী হওয়ার পর তার বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে, তরুণীর গর্ভে থাকা ভ্রূণের জৈবিক পিতা তারই বাবা।
বিজ্ঞাপন
মুম্বাইয়ের কাফে প্যারেড এলাকায় ঘটনার সূত্রপাত। তদন্তকারীরা এটিকে অজাচারের গুরুতর উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তরুণী দীর্ঘ সময় ধরে পরিবারের এক নিকটাত্মীয়ের যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিলেন।
তদন্তের শুরুতে ভুক্তভোগী তরুণীর ইশারাভিত্তিক বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করা হয়। তরুণী ইঙ্গিতের মাধ্যমে জানান, একাধিক ব্যক্তি তার ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। এ কারণে পুলিশ মোট ১৭ জন সন্দেহভাজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠায়।
বিজ্ঞাপন
ল্যাবরেটরি পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, গর্ভস্থ ভ্রূণের ডিএনএ কেবল একজনের সঙ্গেই মিলে—যিনি তরুণীর বাবা। চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট হাতে পায় পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তরুণী তার দাদির কাছে শারীরিক অস্বস্তির কথা ইশারায় জানান। তিনি বোঝাতে চেষ্টা করেন, তার পেটের ভেতরে অস্বাভাবিক নড়াচড়া হচ্ছে। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকেরা জানান, তিনি প্রায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
বিজ্ঞাপন
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পুলিশকে জানায়। তবে তদন্তের শুরুতে বড় বাধা ছিল—ভুক্তভোগী কথা বলতে পারেন না এবং প্রথমদিকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দিতেও রাজি ছিলেন না। তার বাবা শুরুতে ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং মেয়ের গর্ভধারণের কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এমনকি থানায় অভিযোগ দিতেও অনীহা দেখান।
পরে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে তরুণী অভিযোগ জানাতে সম্মত হন। তদন্তে উঠে এসেছে, গত বছরের মার্চ থেকে ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে একাধিকবার নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। ২২ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত এখনো চলমান।








