পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে সপ্তাহব্যাপী সামরিক অভিযান, নিহত ২১৬

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে সপ্তাহজুড়ে পরিচালিত নিরাপত্তা অভিযানে ২১৬ জন বিদ্রোহী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)–এর প্রদেশজুড়ে চালানো হামলার প্রতিক্রিয়ায় ‘অপারেশন রদ্দ-উল-ফিতনা-১’ নামের অভিযান শুরু হয়। ২৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি ও স্লিপার সেল ধ্বংসের কার্যক্রম চালানো হয়।
বিএলএ দাবি করেছিল, তারা সমন্বিত হামলায় স্কুল, ব্যাংক, বাজার ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
বিজ্ঞাপন
সামরিক বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযানে বিদ্রোহী নেটওয়ার্কের নেতৃত্ব ও কমান্ড কাঠামো বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। এ সময় বিদেশি উৎসের অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক ও নানা সরঞ্জাম জব্দের কথাও জানানো হয়। প্রাথমিক বিশ্লেষণে বাহিনীর ধারণা, হামলাকারীরা বাইরে থেকে সহায়তা ও লজিস্টিক সাপোর্ট পেয়েছিল।
অভিযান চলাকালে ৩৬ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ২২ সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়।
বেলুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন কয়েক দশক ধরে চলমান। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সহিংসতার মাত্রা বেড়েছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অভিযোগ, সম্পদসমৃদ্ধ এই প্রদেশ শোষণ ও বৈষম্যের শিকার।
বিজ্ঞাপন
কয়লা, সোনা, তামা ও গ্যাসে সমৃদ্ধ বেলুচিস্তান কেন্দ্রীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও এখানকার বিভিন্ন গোষ্ঠী দাবি করে, স্থানীয় জনগণ উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত।
সরকারের বক্তব্য, এসব সশস্ত্র গোষ্ঠী নিয়মিতভাবে নিরাপত্তা বাহিনী, সাধারণ নাগরিক এবং চীনা প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মীদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। ২০২৫ সালে একটি ট্রেনে হামলার ঘটনায় দুই দিনব্যাপী অবরোধের মধ্যে বহু প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞাপন
বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সারফরাজ বুগ্টি জানিয়েছেন, গত এক বছরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ৭০০–এর বেশি বিদ্রোহী নিহত হয়েছেন। তার ভাষ্য, “শেষ দুই দিনেই প্রায় ৭০ জন বিদ্রোহী নিহত হয়েছে। সন্ত্রাসী হামলা আমাদের সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থান দুর্বল করতে পারবে না।”
তিনি প্রতিবেশী ভারত ও আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের সহায়তার অভিযোগ তুলেছেন। তবে নয়াদিল্লি ও কাবুল শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: আল-জাজিরা








