Logo

খামেনির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে আগ্রহী ট্রাম্প

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৭:১৩
খামেনির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে আগ্রহী ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-এর সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে বসতে চান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ তথ্য জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও।

বিজ্ঞাপন

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক যোগাযোগ প্রয়োজন। তিনি এমন এক প্রশাসনে কাজ করছেন, যেখানে প্রেসিডেন্ট সরাসরি কথা বলতে ও বৈঠক করতে আগ্রহী।

রুবিওর ভাষ্য, যদি খামেনি সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেন, তাহলে ট্রাম্প তা গ্রহণ করবেন। মতভেদ থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান সম্ভব— এমন বিশ্বাস থেকেই ট্রাম্প বৈঠকে রাজি হবেন বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকারে রুবিও আরও বলেন, ইরানকে কখনও পরমাণু শক্তিধর হতে দেওয়া হবে না— এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট। তার মতে, তেহরানের হাতে পরমাণু অস্ত্র এলে তা মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হবে। অন্যান্য ইস্যু কূটনৈতিক পথে সমাধানের আগ্রহও রয়েছে বলে জানান তিনি।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে প্রায় দুই দশক ধরে ওয়াশিংটন-তেহরান উত্তেজনা চলছে। ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর উত্তেজনা বাড়ে। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।

২০২৫ সালের জুনে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র জড়িয়ে পড়ে এবং তেহরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ পরিচালনা করে মার্কিন বাহিনী। এরপর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়নি।

বিজ্ঞাপন

গত ডিসেম্বরে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হলে উত্তেজনা আবারও বৃদ্ধি পায়। বিক্ষোভ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পর ট্রাম্প সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি দিলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। জানুয়ারির মাঝামাঝি বিক্ষোভ প্রশমিত হয়।

এদিকে একই সময়ে আরব সাগরের মধ্যপ্রাচ্য অংশে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ একাধিক রণতরী মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে আরব সাগর, লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি বিমানবাহী রণতরী ও বহু যুদ্ধজাহাজ টহল দিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

গত দুই সপ্তাহ ধরে ওমানের রাজধানী মাস্কাট-এ দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপ চলছে। আলোচনা অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় মার্কিন নৌ-উপস্থিতি বাড়ানোর কারণ জানতে চাইলে রুবিও বলেন, অতীতে ইরান একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে আঘাত করেছে। সেই প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।

সূত্র: ব্লুমবার্গ/এএফপি।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD