লক্ষ্য ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব: সরকার পরিবর্তনের চিন্তা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করা হতে পারে এবং তেহরানে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা চালানো হতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বার্তা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, দুই মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই তথ্য দিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিয়েছে। সামরিক পরিকল্পনায় ইরানের নিরাপত্তা স্থাপনা ও পারমাণবিক অবকাঠামোকে নিশানা করা হতে পারে।
নতুন তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দেশ দিলে ইরানের নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা আছে। তবে কোন ব্যক্তিরা আক্রমণের লক্ষ্য হতে পারেন বা সরকার পরিবর্তনের জন্য বড় আকারের স্থলবাহিনী ছাড়া কীভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
বিজ্ঞাপন
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানে সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনা ট্রাম্পের আগের প্রতিশ্রুতির থেকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছে। এতে রণতরী, যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ এবং দূরপাল্লার বোমা হামলায় সক্ষম বিমান অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ডের নজির ছিল। ২০২০ সালে ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে নিশানা করে হামলার অনুমোদন দেন তিনি। সোলাইমানি তখন ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোরের কুদস ফোর্সের প্রধান ছিলেন। ২০১৯ সালে ট্রাম্প প্রশাসন ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোরকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে, যা অন্য দেশের সামরিক বাহিনীকে এ ধরনের তকমা দেওয়ার প্রথম ঘটনা ছিল।
বিজ্ঞাপন
এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে হামলার অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্র পর্যবেক্ষণ করেছে। সেই যুদ্ধে অন্তত ২০ জন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার নিহত হন, যাদের মধ্যে মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরিও ছিলেন।
কর্মকর্তারা বলেন, নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে উন্নত গোয়েন্দা সক্ষমতা প্রয়োজন, কারণ সুনির্দিষ্ট অবস্থান ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিবেচনা করা জরুরি। হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি।
তবে ট্রাম্প সম্প্রতি উল্লেখ করেছেন, ইরানে সরকার বদলালে সেটি “সবচেয়ে ভালো বিষয়” হতে পারে, তবে তিনি স্পষ্ট করেননি কার নেতৃত্বে সরকার গড়ে উঠবে; শুধু বলেছেন, “সেখানে মানুষ আছে।”








