Logo

বিদেশি কর্মীর জন্য বড় দুঃসংবাদ দিলো মালয়েশিয়া

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৭ মার্চ, ২০২৬, ১৪:৫১
বিদেশি কর্মীর জন্য বড় দুঃসংবাদ দিলো মালয়েশিয়া
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ বিদেশি কর্মীদের জন্য এসেছে বড় ধাক্কা। দেশটির সরকার বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয়দের কর্মসংস্থান বাড়াতে নতুন কড়াকড়ি নীতি ঘোষণা করেছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ১ জুন থেকে ‘এমপ্লয়মেন্ট পাস’ পেতে ন্যূনতম বেতনসীমা প্রায় দ্বিগুণ করা হচ্ছে। এতে দেশটিতে কর্মরত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে।

বিজ্ঞাপন

মালয়েশিয়ার ২০২৫ সালের জাতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটির মোট শ্রমশক্তির ১৪ শতাংশের বেশি বিদেশি কর্মী। এই হার ২০৩৫ সালের মধ্যে কমিয়ে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

স্থানীয়দের জন্য বেশি বেতনের চাকরির সুযোগ তৈরি করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রায় ৮ লাখ বৈধ বাংলাদেশির পাশাপাশি কয়েক লাখ অনিয়মিত কর্মীর সেখানে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

বিজ্ঞাপন

নতুন নিয়মে বিদেশি কর্মীদের কাজের অনুমতির জন্য বেতন সীমা এমনভাবে বাড়ানো হয়েছে, যা অনেক কোম্পানির পক্ষেই প্রদান করা কঠিন হবে। এর ফলে নিয়োগকর্তারা বিদেশি কর্মীদের পরিবর্তে স্থানীয়দের নিয়োগ দিতে বাধ্য হবেন।

এই নিয়মে মূলত তিনটি প্রধান ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে বিদেশি পেশাজীবীদের। ক্যাটাগরি-১-এর ক্ষেত্রে এখন থেকে ন্যূনতম মাসিক বেতন হতে হবে ২০ হাজার রিঙ্গিত, যা আগে ছিল ১০ হাজার রিঙ্গিত। এই উচ্চ বেতনভোগী কর্মীরা সর্বোচ্চ ১০ বছর দেশটিতে অবস্থানের অনুমতি পাবেন। 

অন্যদিকে, ক্যাটাগরি-২-এর ক্ষেত্রে বেতনসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার থেকে ১৯ হাজার ৯৯৯ রিঙ্গিত পর্যন্ত। এই স্তরের কর্মীদের জন্যও ভিসার সর্বোচ্চ মেয়াদ রাখা হয়েছে ১০ বছর।

বিজ্ঞাপন

তবে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে ক্যাটাগরি-৩-এর ওপর, যেখানে আগে ৫ হাজার রিঙ্গিত বেতন হলেই চলত, এখন সেখানে নতুন সীমা ধরা হয়েছে ৫ হাজার থেকে ৯ হাজার ৯৯৯ রিঙ্গিত পর্যন্ত। এই ক্যাটাগরির কর্মীদের জন্য অবস্থানের সময়সীমা কমিয়ে মাত্র ৫ বছর করা হয়েছে। নির্দিষ্ট এই সময় পার হওয়ার পর নিয়োগকর্তাদের বাধ্যতামূলকভাবে স্থানীয় কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা থাকতে হবে।

মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশন ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ শ্রমিকের পাশাপাশি বাংলাদেশি পেশাজীবীরাও বড় ধরনের সংকটে পড়বেন। ২০২৪ সাল থেকে বাংলাদেশ থেকে নতুন কর্মী নিয়োগের ভিসা এমনিতেই বন্ধ রয়েছে। নতুন নীতি কার্যকর হলে যারা বর্তমানে সেখানে আছেন, তাদের একটি বড় অংশকে মেয়াদ শেষে দেশে ফিরে আসতে হবে। কারণ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো (এসএমই) বিদেশি কর্মীদের জন্য এই উচ্চ বেতন বহন করতে পারবে না।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, রেমিট্যান্স আয়ের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের চতুর্থ বৃহত্তম উৎস। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশটিতে কর্মরত প্রবাসীরা ২৮০ কোটি ৪৭ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। ফলে বিপুলসংখ্যক কর্মী দেশে ফিরে এলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সংকুচিত হয়ে আসায় বাংলাদেশ সরকারকে এখনই বিকল্প শ্রমবাজার খোঁজার জন্য কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যথায়, ২০৩৫ সালের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে গিয়ে কয়েক লাখ বাংলাদেশি কর্মহীন হয়ে পড়ার এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধসের ঝুঁকি তৈরি হবে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD