ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা আরও ১০ দিন স্থগিত করলেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে দেশটির বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলার পরিকল্পনা আবারও স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সম্ভাব্য হামলার সময়সীমা ১০ দিন বাড়িয়ে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, ইরানের অনুরোধে তিনি বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলার সময়সীমা পিছিয়েছেন। তার দাবি, আলোচনায় অগ্রগতি হচ্ছে। তবে ইরান এ ধরনের কোনো আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
এ সিদ্ধান্ত এমন সময় এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার জন্য ইরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। বৈশ্বিক তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হলেও বর্তমানে তা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
বিজ্ঞাপন
এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রণালী খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলা চালানো হবে। পরে তিনি প্রথমে ৫ দিনের জন্য সময় বাড়ান, আর এবার দ্বিতীয় দফায় আরও ১০ দিন পিছিয়ে দিলেন।
এ পরিকল্পনা ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এ পদক্ষেপকে ‘যুদ্ধাপরাধের হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসামরিক অবকাঠামো—বিশেষ করে বিদ্যুৎ কেন্দ্র—লক্ষ্য করে হামলা চালানো জেনেভা কনভেনশনের আলোকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যদি তা সরাসরি সামরিক প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত না থাকে।
বর্তমান উত্তেজনার সূচনা হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এরপর থেকেই অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বেড়ে চলেছে।
বিজ্ঞাপন
ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান যুদ্ধ অবসানে চুক্তির জন্য আগ্রহ দেখাচ্ছে। তবে তেহরান তা নাকচ করে জানিয়েছে, তাদের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে পুরো অঞ্চলে পাল্টা আক্রমণ বাড়ানো হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে আলোচনার ইঙ্গিত, অন্যদিকে সামরিক হুমকি—এই দ্বৈত অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। এমনকি সম্ভাব্য স্থল অভিযানের আলোচনা সামনে আসায় সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বর্তমান সংঘাতে ইতোমধ্যে হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে এই সংকট বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।








