যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের উদ্দেশে ইরানি প্রেসিডেন্টের খোলা চিঠি

যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের উদ্দেশে খোলা চিঠি দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এতে তিনি দাবি করেন, ইরান কোনো আগ্রাসী রাষ্ট্র নয় এবং অন্য দেশের ওপর আগ বাড়িয়ে হামলার ইতিহাস তাদের নেই।
বিজ্ঞাপন
বুধবার প্রেসিডেন্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত চিঠিতে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ইরানে সামরিক হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কী স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে।
চিঠিতে বলা হয়, ইরানের জ্বালানি, শিল্প ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধের শামিল। এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও দীর্ঘমেয়াদে বিস্তৃত হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
পেজেশকিয়ান আরও বলেন, চলমান সংঘাত অস্থিতিশীলতা, প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতির মাত্রা বাড়াচ্ছে, যার প্রভাব বৈশ্বিক পর্যায়েও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
তিনি মার্কিন জনগণের উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন, এই যুদ্ধ কি সত্যিই তাদের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ, নাকি অন্য কোনো প্রভাবের কারণে যুক্তরাষ্ট্র এতে জড়িয়েছে। একই সঙ্গে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে এই সংঘাতের সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, অতীতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা চালালেও ইরান কখনও সাধারণ মার্কিনিদের শত্রু হিসেবে দেখেনি এবং এখনও সেই অবস্থান বহাল রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হলেও তা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।
এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করলে সংঘাত তীব্র আকার নেয়। পাল্টা জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
বর্তমান সংঘাতে এ পর্যন্ত ইরানে প্রায় ১ হাজার ৩৪০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, ইরানে সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বিক্ষোভও শুরু হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই মার্কিন জনগণের উদ্দেশে চিঠিটি দিয়েছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট।
সূত্র: এএফপি, টাইমস অব ইসরায়েল








