হরমুজ প্রণালি বন্ধের খবরে বিশ্ববাজারে ফের বাড়ছে তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। বৃহস্পতিবার এশিয়ার সকালের লেনদেনে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও বাড়ার প্রবণতা দেখা গেছে।
বিজ্ঞাপন
যদিও সম্প্রতি দুই সপ্তাহের একটি শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল, বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংশয় কাটেনি। বিশেষ করে লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলা এবং এর জবাবে ইরানের কঠোর অবস্থান বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়েছে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২.২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬.৭০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ২.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৬.৯০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় এই দাম অনেক বেশি।
বিজ্ঞাপন
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতির কেন্দ্রে রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধবিরতির অন্যতম শর্ত থাকলেও এই রুটে জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক হয়নি। ইরানের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে, অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ পার হওয়ার চেষ্টা করলে তা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।
ফলে প্রতিদিন যেখানে গড়ে প্রায় ১৩০টি জাহাজ চলাচল করত, সেখানে এখন খুব কম সংখ্যক জাহাজ পার হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আজ থেকেই স্বাভাবিক চলাচল শুরু হলেও জমে থাকা জাহাজের জট কাটাতে অন্তত ১০ দিন সময় লাগতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা এখনো নাজুক অবস্থায় রয়েছে, যা তেলের বাজারে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত তেল ও গ্যাস অবকাঠামো মেরামতে সময় লাগবে, ফলে দীর্ঘমেয়াদে দাম উচ্চ অবস্থানে থাকতে পারে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারেও। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান সূচকগুলোতে উল্লেখযোগ্য পতন লক্ষ্য করা গেছে।
লেবাননকে যুদ্ধবিরতির আওতায় রাখা হয়েছে কি না—এ নিয়ে অস্পষ্টতা এবং হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলার কারণে সামগ্রিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।








