হরমুজে টোল আরোপ আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী: যুক্তরাজ্য

হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী বিদেশি জাহাজ থেকে টোল আদায়ের উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছে যুক্তরাজ্য। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপার বলেছেন, বৈশ্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথকে উন্মুক্ত রাখা এখন সবচেয়ে জরুরি।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার লন্ডনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ, যেখানে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী কোনো দেশের একতরফাভাবে নিয়ন্ত্রণ আরোপ বা বাধা সৃষ্টি করার সুযোগ নেই। তার মতে, এ ধরনের উদ্যোগ কেবল আইনবিরোধীই নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার জন্যও হুমকিস্বরূপ।
তিনি আরও জানান, শুধু বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য নয়, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্যও হরমুজ প্রণালির অবাধ ও নিরবচ্ছিন্ন ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সমুদ্রপথে চলাচলের মৌলিক স্বাধীনতা কোনোভাবেই সীমিত করা বা দর-কষাকষির বিষয় হতে পারে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক জলপথে টোল আরোপের ধারণাকে সরাসরি আইনবিরোধী হিসেবে আখ্যা দেন কুপার।
বিজ্ঞাপন
লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানেরও বিরোধিতা করেছেন ইয়েভেট কুপার। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, “লেবাননে সংঘাত বন্ধ করতে হবে। যদি সেখানে সহিংসতা-সংঘাত অব্যাহত থাকে— তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির কোনো পদক্ষেপ স্থায়ী হবে না।”
উল্লেখ্য, ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)- এর বরাত দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়ালি স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেসব জাহাজ পার হবে তাদের আগে থেকেই টোল পরিশোধ করতে হবে। ক্রিপ্টো কারেন্সি বা চীনের মুদ্রা ইউয়ানে এই টোল পরিশোধ করতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির চুক্তি চলা পর্যন্ত এভাবে টোল আদায় হবে।
বিজ্ঞাপন
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলোকে প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ১ ডলার করে টোল আদায় করা হবে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানিয়েছেন ইরানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা।
সূত্র : বিবিসি








