Logo

ইরানে আবরও হামলা হলে সরাসরি যুদ্ধে জড়াবে ইয়েমেন

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১৫:৪৬
ইরানে আবরও হামলা হলে সরাসরি যুদ্ধে জড়াবে ইয়েমেন
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি আবার ইরান ও ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে, তাহলে ইয়েমেন সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবরটি প্রকাশ করেছে প্রেস টিভি।

বিজ্ঞাপন

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে ‘পূর্ণ নৌ অবরোধ’ আরোপ করবে এবং এই জলপথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করলে তা আটকে দেওয়া হবে। তার এই বক্তব্যের পরই ইয়েমেনের পক্ষ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া আসে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে ইয়েমেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানায়, এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কোনো সামরিক অভিযান বা নৌ-সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এতে জ্বালানির দাম ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাও ঝুঁকিতে পড়বে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য সমুদ্রপথে সংঘাত বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়, যা ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের ব্যর্থতার প্রমাণ।

বিজ্ঞাপন

এতে ২০২৫ সালের জুন এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে দুই দফা সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য ছিল ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সরকারকে উৎখাত করা।

ইয়েমেনের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এখন হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে, তবে তারা এতে সফল হবে না। ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক আলোচনাকে ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর জন্য কূটনৈতিক বিজয় হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।

এদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সতর্ক করেছে, কোনো সামরিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করলে তা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেন, হুমকি দিয়ে ইরানকে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তার ভাষায়, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে ইরান কোনো ধরনের সামরিক, অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করেনি।

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ চাইলে যুদ্ধের জবাব দেওয়া হবে, আর আলোচনার পথ বেছে নিলে আলোচনা করা হবে—কিন্তু কোনো হুমকির কাছে ইরান মাথা নত করবে না।

উল্লেখ্য, ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রায় ২১ ঘণ্টার আলোচনা হলেও অতিরিক্ত শর্তের কারণে কোনো চুক্তি হয়নি।

বিজ্ঞাপন

সূত্র : প্রেস টিভি

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD