ইসরায়েলের সঙ্গে পাকিস্তান সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না: ইসহাক দার

পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার পুনরায় স্পষ্ট করেছেন যে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত দেশটি ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের কোনো উদ্যোগ নেবে না। এটি পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির অংশ।
বিজ্ঞাপন
ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে শুক্রবার (২৯ মে) অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর পাকিস্তানের এই উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফিলিস্তিন ও গাজা ইস্যুতে ইসলামাবাদের নীতিগত অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। পাকিস্তান দূতাবাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অবস্থান বহাল রয়েছে। তিনি আরও জানান, সপ্তাহের শুরুতে জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত আলোচনাতেও পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে একই অবস্থান তুলে ধরেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি কয়েকটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশকে আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এ প্রেক্ষাপটে দার বলেন, “একটি সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত না হলে ইসরায়েলের ব্যাপারে পাকিস্তানের কূটনৈতিক অবস্থান পরিবর্তিত হবে না।”
বিজ্ঞাপন
ফিলিস্তিন ইস্যুর বাইরেও এই বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। ইসহাক দার জানান, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান যে নীরব কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করছে, তার প্রশংসা করেছে আমেরিকা।’
আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়েও দুই পক্ষ বিস্তারিত কথা বলেছে। তবে মধ্যস্থতার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি দার।
মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গোপনীয়তার নিয়মের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, ‘পাকিস্তান আশাবাদী যে তার এই ভূমিকা অঞ্চলে বৃহত্তর শান্তি প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে পারবে।’
বিজ্ঞাপন
আব্রাহাম চুক্তি নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও বৈঠক শেষে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে একমত হয়েছে। ইসহাক দার জানিয়েছেন, পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার জন্য বিস্তারিত আলোচনা শুরু করতে সম্মত হয়েছেন। এছাড়াও চলতি বছরের মধ্যে এই অংশীদারিত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তান সফরে আসবেন।








