Logo

কঙ্গোতে দ্রুত ছড়াচ্ছে ইবোলা, মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ১ হাজার ৩৫০

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৬ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৭
কঙ্গোতে দ্রুত ছড়াচ্ছে ইবোলা, মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ১ হাজার ৩৫০
ছবি: সংগৃহীত

আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইবোলা ভাইরাসের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্যে দেখা গেছে, প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৫৪ জনে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার প্রকাশিত কঙ্গো সরকারের হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ইবোলায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৭৫ জনে পৌঁছেছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২৭ শতাংশ এবং মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সংক্রমণের গতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কঙ্গোর ইতিহাসে ইবোলার বর্তমান প্রাদুর্ভাব অন্যতম দ্রুত বিস্তার লাভ করা সংক্রমণে পরিণত হয়েছে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আব্দুলসামি নাসিদি জানিয়েছেন, কার্যকর ও অনুমোদিত ভ্যাকসিনের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তার মতে, এ কারণেই ভাইরাসটি দাবানলের মতো দ্রুত বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, যেসব অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত ও সহিংসতা চলছে, সেখানে ইবোলা নিয়ন্ত্রণ করা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ এসব এলাকায় পর্যাপ্ত হাসপাতাল, চিকিৎসাকেন্দ্র, স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক গবেষক ও বিজ্ঞানীরা নতুন ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপ জানিয়েছে, তাদের উদ্ভাবিত একটি পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিন ইতোমধ্যে একজন স্বেচ্ছাসেবীর শরীরে প্রয়োগ করা হয়েছে। গবেষণাটি সফল হলে ভবিষ্যতে ইবোলা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে কঙ্গোতে যে ইবোলা সংক্রমণ ছড়াচ্ছে, সেটি বুন্দিবুগয়ো (Bundibugyo) নামের একটি বিরল ভ্যারিয়েন্ট। এটি ইবোলা ভাইরাসের চারটি বিরল ধরন বা ভ্যারিয়েন্টের একটি। এ ধরনের সংক্রমণ মানুষের শরীরে ছড়ালেও এখন পর্যন্ত এই ভ্যারিয়েন্টগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো অনুমোদিত ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত শনাক্তকরণ, আক্রান্তদের বিচ্ছিন্ন রাখা, সংক্রমিত এলাকার নজরদারি বৃদ্ধি এবং চিকিৎসাসেবা জোরদার না করা গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

ইবোলা ভাইরাস অতীতেও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনে ছড়িয়ে পড়া মহামারিতে ১১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সে সময় ২৮ হাজারেরও বেশি মানুষ এই প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্ত হন, যা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ইবোলা প্রাদুর্ভাব হিসেবে বিবেচিত হয়।

বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় কঙ্গোসহ আশপাশের দেশগুলোতে সংক্রমণ ঠেকাতে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত চিকিৎসা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর ভ্যাকসিন উদ্ভাবনই ইবোলা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD