Logo

স্কুল ছুটির সময় আর সেই চিরচেনা ঘণ্টা নয়, জানাবে এআই

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১৭:১৪
স্কুল ছুটির সময় আর সেই চিরচেনা ঘণ্টা নয়, জানাবে এআই
ছবি: সংগৃহীত

স্কুলজীবনের অন্যতম পরিচিত শব্দ ‘ছুটির ঘণ্টা’—যার ঢং ঢং আওয়াজে মুখর হতো পুরো ক্যাম্পাস। এবার ইতিহাস হতে চলেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ারের দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। প্রচলিত ঘণ্টা পদ্ধতির বদলে সেখানে চালু হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর স্বয়ংক্রিয় ঘোষণা ব্যবস্থা, যা এখন থেকে ক্লাসের সময়সূচি থেকে শুরু করে ছুটির নির্দেশনা পর্যন্ত সবকিছুই জানাবে।

বিজ্ঞাপন

আলিপুরদুয়ারের জটেশ্বর হাইস্কুল ও জটেশ্বর গার্লস হাইস্কুলে ইতোমধ্যে তুলে নেওয়া হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ঘণ্টা। তার পরিবর্তে বসানো হয়েছে আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম, যেখানে একটি কৃত্রিম নারী কণ্ঠ নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী ঘোষণা দেবে। পিরিয়ড শেষ, মধ্যাহ্নভোজনের সময় কিংবা ছুটি—সবই জানানো হবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে।

স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, এই নতুন ব্যবস্থাটি অনেকটা রেলস্টেশন বা ট্রেনের ঘোষণার মতো কাজ করবে। যেমন ট্রেনে পরবর্তী স্টেশনের ঘোষণা দেওয়া হয়, তেমনি এখানে সময় অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেসে আসবে ঘোষণা—কখন প্রার্থনা শুরু হবে, কখন এক পিরিয়ড শেষ হয়ে অন্যটি শুরু হবে, কিংবা কখন ছুটি।

বিজ্ঞাপন

দুটি স্কুলের পরিসর বড় হওয়ায় প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে যেন স্পষ্টভাবে ঘোষণা পৌঁছায়, সেজন্য ক্যাম্পাসজুড়ে মাইক স্থাপন করা হয়েছে। অ্যাপ-নিয়ন্ত্রিত এই সিস্টেমে বোতাম চাপলেই পুরো স্কুলে একযোগে বার্তা পৌঁছে যায়।

শিক্ষার্থীদের জন্য ঘোষণাগুলোও রাখা হয়েছে সহজ ও নির্দেশনামূলক। যেমন, প্রার্থনার আগে বলা হবে মাঠে যাওয়ার কথা, পিরিয়ড শেষে পরবর্তী ক্লাসের নির্দেশনা, আর ছুটির সময় শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে বাড়ি ফেরার আহ্বান।

এই পরিবর্তনের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে কর্মী সংকট। স্কুল সংশ্লিষ্টদের মতে, কয়েক বছর আগে শিক্ষাকর্মী কমে যাওয়ার পর থেকে ঘণ্টা বাজানোসহ বিভিন্ন দৈনন্দিন কাজ পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছিল। সাময়িকভাবে চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ দিলেও তা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হয়নি। আর্থিক চাপও বেড়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

এ অবস্থায় স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ধারণা সামনে আসে এবং সেটিই কার্যকর সমাধান হিসেবে গ্রহণ করা হয়। স্কুল পরিচালনা কমিটির অনুমোদনের পর দ্রুত এই প্রযুক্তি স্থাপন করা হয়।

এর আগে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা ও মেদিনীপুরের কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন প্রযুক্তি চালু হলেও আলিপুরদুয়ার তথা উত্তরবঙ্গে এই উদ্যোগ প্রথম বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

ইতোমধ্যে এই নতুন ব্যবস্থায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তাদের মতে, এটি শুধু সময় ব্যবস্থাপনাকে সহজ করেনি, বরং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার দিকেও একধাপ এগিয়ে দিয়েছে।

স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে ব্যয়ভার বহন করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল থেকে। পাশাপাশি শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যরাও আর্থিকভাবে সহায়তা করেছেন।

পুরনো দিনের স্মৃতি বহনকারী ছুটির ঘণ্টা বিদায় নিলেও প্রযুক্তির ছোঁয়ায় স্কুলে শুরু হয়েছে নতুন এক অধ্যায়—যেখানে সময় জানাবে এআই, আর শৃঙ্খলা বজায় রাখবে স্বয়ংক্রিয় কণ্ঠস্বর।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD