এবার হরমুজ প্রণালি থেকে দুই ইসরায়েলি জাহাজ জব্দ করল ইরান

হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচলের নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে দুইটি ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজ আটক করেছে ইরান। আটক করার পর জাহাজগুলোকে ইরানের আঞ্চলিক জলসীমায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২২ এপ্রিল) আইআরজিসির বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভি। সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, জব্দ হওয়া জাহাজ দুটি হলো এমএসসি ফ্রান্সিসকা ও ইপামিনোদেস, যেগুলো ইসরায়েলি পরিবহন নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
আইআরজিসির দাবি, জাহাজ দুটি প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই চলাচল করছিল এবং একাধিকবার নৌ-নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। পাশাপাশি নেভিগেশন সহায়ক ব্যবস্থায় কারসাজি করে গোপনে প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা হয়, যা সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
বিজ্ঞাপন
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জাহাজ দুটি শনাক্ত করে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়ে আইআরজিসি বলেছে, এটি ইরানের বৈধ অধিকার রক্ষার অংশ। বর্তমানে জাহাজগুলোর পণ্য ও নথিপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
আইআরজিসি নৌবাহিনী সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম ভঙ্গ বা নিরাপদ নৌচলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ইরানের লিগাল মেডিসিন অর্গানাইজেশনের প্রধান আব্বাস মাসজেদি জানিয়েছেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় দেশটিতে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এখনো চারটি মরদেহ শনাক্ত করা যায়নি বলেও জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
প্রসঙ্গত, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে। দেশটির বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালানো হয়, এতে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
পরে ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যা দুই সপ্তাহের জন্য সংঘাত স্থগিত রাখে। ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে বৈঠক হলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: প্রেস টিভি








