বিশ্ববাজারে আবারও বাড়লো তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হলেও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। এ পরিস্থিতির প্রভাবে বুধবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে দরপতনের প্রবণতা দেখা গেছে।
বিজ্ঞাপন
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার দিনের শুরুতে এশিয়ার শেয়ারবাজারে লেনদেনে মিশ্র চিত্র দেখা যায়। বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরিস্থিতি নিয়ে স্পষ্টতা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানি কর্তৃপক্ষের মাঝে এমন এক যুদ্ধের সমাপ্তি চান; যার ফলে তেল ও গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।
আরও পড়ুন: পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কমালো চীন
ওয়েলথ ক্লাবের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ সুজানা স্ট্রিটার বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে প্রভাব পড়ছে, সেই উদ্বেগ কাটেনি। ফলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের খুব একটা আশ্বস্ত করতে পারেনি।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে এবং সংঘাতের স্থায়ী সমাধানও এখন অধরা। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দামেও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট নর্থ সি তেলের দাম আবারও ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম ৯০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে।
হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা
বিজ্ঞাপন
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেন। এর মধ্যেই বুধবার হরমুজ প্রণালিতে অন্তত তিনটি কন্টেইনার জাহাজে ইরানি গানবোট থেকে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে দুটি জাহাজ জব্দ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
ট্রাম্প বলেছেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সংলাপ শুরুর চেষ্টা চলাকালীনও ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর গত সাত সপ্তাহ ধরে ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে রেখেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং তেলের দাম বেড়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
ওভারসি-চাইনিজ ব্যাংকিং কর্পোরেশনের কৌশলবিদ ক্রিস্টোফার ওং বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সম্ভবত নিজ নিজ প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে এবং কে আগে নতি স্বীকার করে সেই লড়াইয়ে নেমেছে। তিনি বলেন, ফলাফল যাই হোক না কেন, এই অন্তর্বর্তীকালীন অনিশ্চয়তা বিনিয়োগের ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতাকে কমিয়ে দিতে পারে।
সূত্র: এএফপি।
বিজ্ঞাপন








