২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে অভিবাসন পথে প্রাণ হারিয়েছেন ৮ হাজার মানুষ

উন্নত জীবনের আশায় ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশে পাড়ি দিতে গিয়ে ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী প্রাণ হারিয়েছেন। জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আইওএম সদরদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির হিউম্যানিটেরিয়ান রেসপন্স অ্যান্ড রিকোভারি বিভাগের পরিচালক মারিয়া মোয়িতা বলেন, ২০২৫ সালে বিশেষ করে এশিয়া অঞ্চলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রাণহানির হার উল্লেখযোগ্য ছিল। এ সময়ে শত শত রোহিঙ্গা ও আফগান নাগরিক ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় নিহত হয়েছেন।
তিনি আরও জানান, সামগ্রিকভাবে অভিবাসনপ্রত্যাশীর সংখ্যা কমেছে—এমন ধারণা সঠিক নয়। বরং সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, শ্রমবাজারের চাহিদা এবং বিভিন্ন দেশের নীতিগত পরিবর্তনের কারণে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা নতুন নতুন রুট বেছে নিচ্ছেন। এসব বিকল্প পথ আগের তুলনায় দীর্ঘ, বিচ্ছিন্ন এবং অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
বিজ্ঞাপন
মারিয়া মোয়িতা বলেন, “আমরা লক্ষ্য করছি যে প্রচলিত রুটের ব্যবহার কমে এসেছে, আর অভিবাসীরা এমন পথ বেছে নিচ্ছেন যা অধিক বিপদজনক।”
আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অভিবাসনপথে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৯ হাজার ১৯৭ জন। সে তুলনায় ২০২৫ সালে মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কম দেখা গেলেও এটিকে প্রকৃত অর্থে ঝুঁকি কমে যাওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত বছর প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ সমুদ্রে নিখোঁজ হয়েছেন বলে ধারণা করা হলেও এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য বা আনুষ্ঠানিক তথ্য না থাকায় সেই সংখ্যা প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
বিজ্ঞাপন
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধে নিরাপদ পথ নিশ্চিত করা, তথ্যপ্রবাহ বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা জরুরি হয়ে উঠেছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি








