Logo

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১৩:৪৩
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যায় চাঞ্চল্যকর তথ্য
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া তার রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়েহকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। ২৬ বছর বয়সী এই তরুণের দীর্ঘদিনের সহিংস আচরণ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এখন তদন্তকারীদের প্রধান নজরে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার মেধাবী শিক্ষার্থী জামিল লিমনের মর্মান্তিক মৃত্যুতে যখন পুরো শিক্ষার্থী সমাজ ও কমিউনিটি শোকে স্তব্ধ, তখন সন্দেহভাজন হিশামের অতীত কর্মকাণ্ড নতুন করে আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিশাম আবুগারবিয়েহ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পড়াশোনা করলেও হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন না। আদালত ও স্থানীয় শেরিফ অফিসের নথি বিশ্লেষণ করে তার বিরুদ্ধে একাধিক সহিংস আচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে হিলসবোরো কাউন্টি আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মে ও সেপ্টেম্বর মাসে হিশামের বিরুদ্ধে শারীরিক আঘাত করার অভিযোগ আনা হয়েছিল। সেই সাথে একটি জনশূন্য বাড়িতে চুরির অভিযোগও ছিল তার নামে। যদিও তখন সেগুলোকে কিছুটা লঘু অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল, কিন্তু তার পরিবারের সদস্যরা তার আচরণ নিয়ে আগে থেকেই শঙ্কিত ছিলেন। পরিবারের এক সদস্য হিশামের এমন সহিংস আচরণের কারণে তার বিরুদ্ধে দুটি পারিবারিক সুরক্ষা নিষেধাজ্ঞা বা ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স ইনজাংশনের আবেদন করেছিলেন। আদালত তার মধ্যে একটি আবেদন মঞ্জুরও করেছিল। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের মতো অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।

জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধারের দিনটি ছিল স্থানীয় পুলিশের জন্য অত্যন্ত নাটকীয় ও উত্তেজনার। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) লিমনের দেহের অবশিষ্টাংশ ট্যাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু থেকে উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা পরেই পুলিশ হিশামের পরিবারের বাড়ি থেকে পারিবারিক সহিংসতার একটি ফোন পায়। পুলিশ দ্রুত সেখানে উপস্থিত হলে হিশাম ঘরের ভেতর নিজেকে অবরুদ্ধ করে ফেলেন এবং পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণে অস্বীকৃতি জানান। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াট টিমকে তলব করতে হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই উত্তেজনার পর অবশেষে সোয়াট টিমের চাপে হিশাম আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন।

হিলসবোরো কাউন্টির চিফ ডেপুটি জোসেফ মাউরার জানিয়েছেন, লিমনের মৃত্যুর ঘটনায় হিশামকে একাধিক অভিযোগে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মৃত্যুর সংবাদ না দেওয়া, অবৈধভাবে মৃতদেহ সরানো, আলামত নষ্ট করা, নিজেকে মিথ্যা ও অন্যায়ভাবে আটকে রাখা এবং পারিবারিক সহিংসতা ও শারীরিক আঘাত করা। জামিল লিমনের মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

বিজ্ঞাপন

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা এস বৃষ্টির নিখোঁজ থাকার বিষয়টি এখনো এক বড় রহস্য হয়ে আছে। যদিও তার ভাইয়ের দাবি বৃষ্টিও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। 

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাহিদ হাসান প্রান্ত বলেন, ‘পুলিশ আমাকে ফোন করে মৃত্যুর খবর জানায়। তারা জানান, বাসার ভেতরে রক্তের মধ্যে পাওয়া মৃতদেহের একটি অংশের সঙ্গে ডিএনএ মিল পাওয়া গেছে। তবে পূর্ণাঙ্গ মরদেহ পাওয়া যাবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।’

বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জামিল ও নাহিদাকে সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল আলাদা সময়ে দেখা যায়। ওইদিন সকাল ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ছাত্রাবাসে জামিলকে শেষবার দেখা যায়। আর সকাল ১০টার দিকে নাহিদাকে দেখা যায় ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ভবনে। এরপর থেকেই তাদের সঙ্গে সহপাঠী ও পরিচিতদের কোনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD