প্রেম ও সম্পর্ক গড়তে অবিবাহিতদের টাকা দিচ্ছে জাপান সরকার!

তরুণদের প্রেম ও সম্পর্ক গড়তে উৎসাহ দিতে অভিনব এক উদ্যোগ নিয়েছে জাপানের কোচি প্রিফেকচার। সেখানে অবিবাহিত তরুণ-তরুণীদের সঙ্গী খোঁজার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদন।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০ থেকে ৩৯ বছর বয়সীদের জন্য এই সুবিধা চালু করা হয়েছে। অনুমোদিত অনলাইন পরিচয়ভিত্তিক সঙ্গী খোঁজার সেবায় অংশ নিলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ইয়েন পর্যন্ত অর্থ সহায়তা পাওয়া যাবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই অর্থ মূলত সঙ্গী খোঁজার সেবার বার্ষিক খরচের বড় একটি অংশ বহন করবে। উদ্যোগটির কার্যকারিতা পরবর্তীতে অংশগ্রহণকারীদের মতামতের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় প্রশাসন ইতোমধ্যে একটি জনপ্রিয় ম্যাচমেকিং সেবার সঙ্গে কাজ শুরু করেছে। উদ্দেশ্য হলো তরুণদের নিরাপদ ও বিশ্বাসযোগ্য উপায়ে সম্পর্ক গড়ে তুলতে উৎসাহ দেওয়া।
তবে এই উদ্যোগ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ একে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও অনেকে মনে করছেন, শুধু আর্থিক প্রণোদনা দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, অর্থনৈতিক চাপ এবং সন্তান লালন-পালনের ব্যয় বৃদ্ধি—এসব কারণ সম্পর্ক ও বিয়ের প্রতি অনাগ্রহ তৈরি করছে বলে মত তাদের।
বিজ্ঞাপন
এক জরিপে দেখা গেছে, জাপানে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক দম্পতি অনলাইন পরিচয়ের মাধ্যমে সম্পর্ক গড়েছেন। কর্মস্থল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তুলনায় এই মাধ্যম এখন বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
এদিকে দেশটিতে জনসংখ্যা সংকটও বাড়ছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এক বছরে মৃত্যুর সংখ্যা জন্মের তুলনায় প্রায় ১০ লাখ বেশি। জন্মহারও ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামাঞ্চলে তরুণ জনসংখ্যা হ্রাস, বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার প্রতি অনাগ্রহসহ নানা কারণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
বিজ্ঞাপন
এই সংকট মোকাবিলায় সরকার আগে থেকেই শিশু যত্ন সুবিধা বৃদ্ধি, আবাসন সহায়তা এবং সঙ্গী খোঁজার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।
এখন প্রশ্ন উঠছে—শুধু আর্থিক প্রণোদনায় কি সম্পর্ক ও পরিবার গঠনের সংকট কাটবে, নাকি আরও গভীর ও কাঠামোগত পদক্ষেপ প্রয়োজন?
বিজ্ঞাপন
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট নিউজপেপার








