ভারতে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ আগুন

ভারতের রাজস্থানে দিল্লিমুখী ঐতিহ্যবাহী রাজধানী এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বগিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। চলন্ত ট্রেনে আগুন লাগার এই ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে রেলকর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (১৭ মে) ভোর প্রায় পৌনে ছয়টার দিকে কোটার বিক্রমগড় আলোত স্টেশনের কাছাকাছি পৌঁছালে ট্রেনটির বি-১ বগিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। সে সময় ট্রেনটি চলন্ত অবস্থায় ছিল। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আগুন লাগার সময় ওই বগিতে মোট ৬৮ জন যাত্রী অবস্থান করছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অগ্নিকাণ্ডের সময় ওই আক্রান্ত বগিতে ৬৮ জন যাত্রী ছিলেন। ট্রেনের ভেতর ধোঁয়া ও আগুন দেখতে পেয়ে যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রেলকর্মীরা দ্রুততার সঙ্গে সব যাত্রীকে নিরাপদে বের করে ট্রেনের অন্য বগিতে স্থানান্তর করেন। এরপর আগুন যেন পুরো ট্রেনে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেজন্য ক্ষতিগ্রস্ত বগিটি বাকি অংশ থেকে আলাদা করে সেটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, জ্বলন্ত বগিটি থেকে তীব্র কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে এবং আগুনের তাপে লাইনের পাশের কয়েকটি গাছেও আগুন ধরে গেছে।
বিজ্ঞাপন
রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের ট্রেনের বাকি বগিগুলোতে বসিয়ে কোটা স্টেশন পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। সেখানে ট্রেনটিতে নতুন একটি অতিরিক্ত বগি যুক্ত করা হবে। এরপর যাত্রীরা আবার নিজ নিজ আসনে বসে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে পারবেন।
১২৪৩১ নম্বরের রাজধানী এক্সপ্রেস ট্রেনটি গত শুক্রবার কেরালার থিরুভানানথাপুরাম থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল। ট্রেনটির রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দিল্লির নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল। অগ্নিকাণ্ডের আগে ট্রেনটি প্রায় ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছিল। তখনও গন্তব্য দিল্লি থেকে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার দূরে ছিল ট্রেনটি।
বিজ্ঞাপন
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।








