ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭১৯

ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার তিন দিন পরও ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে জোরালো অভিযান চলছে। ভয়াবহ এ দুর্যোগে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ৭১৯ জন।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২৯ জুন) এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ।
তার দেওয়া তথ্যমতে, ভূমিকম্পে মোট ২২ হাজার ৬১৯ জন বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে আহতের সংখ্যা ৫ হাজার ৩৪ জন। পাশাপাশি অন্তত ৮৫৫টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১৮৯টি সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।
বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার অন্যতম লা গুয়াইরা বন্দরের বাসিন্দারা শাবল, কোদাল ও হাতুড়ি দিয়ে নিজেদের স্বজন ও প্রতিবেশীদের খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এখনও হাজারো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
সোমবার ভোরে দেশটিতে একটি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। তবে এতে নতুন করে কোনো ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এটিকে ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের ‘সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ বলে অভিহিত করেছেন।
বিজ্ঞাপন
আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছালেও গুরুত্বপূর্ণ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় জীবিতদের খুঁজে পাওয়ার আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। সোমবার ভোরে ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার পর ২১ বছর বয়সি এক যুবককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার উত্তরাঞ্চলের লা গুয়াইরা রাজ্যে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে প্রায় ৮০০টি ভবন ধসে পড়ে। সর্বশেষ সোমবার কারাকাস ও লা গুয়াইরা এলাকায় ৪ দশমিক ৬ মাত্রার একটি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর রাস্তায় ভেনেজুয়েলার পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি দেখা গেলেও উদ্ধার অভিযানে তাদের তেমন দেখা যায়নি।
বিজ্ঞাপন
কারাকাসের পশ্চিমাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকা এল জুনকুইতোর বাসিন্দারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযানে সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ছিল খুবই সীমিত। স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষের দেওয়া খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীই দুর্গতদের প্রধান সহায়তায় পরিণত হয়েছে।
সোমবার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, ২৫ হাজারের বেশি জরুরি সেবাকর্মী, পুলিশ ও সেনাসদস্য ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় কাজ করছেন। তার ভাষায়, ‘এ মুহূর্তে একটি প্রাণও যদি বাঁচানো যায়, সেটিই আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য।’
বিজ্ঞাপন








