Logo

কেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনে এত বিলম্ব হলো?

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩ জুলাই, ২০২৬, ১৬:৩৫
কেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনে এত বিলম্ব হলো?
ছবি: সংগৃহীত

সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনকে ঘিরে নজিরবিহীন প্রস্তুতি নিয়েছে ইরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হওয়ার পর শুক্রবার থেকে ইরান ও ইরাকের অন্তত পাঁচটি শহরে তার স্মরণে নানা কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে তার মরদেহ রাজধানী তেহরানে আনা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ইরানের সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি, দাফন অনুষ্ঠানে বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি লাখো মানুষের উপস্থিতি হতে পারে। তাই পুরো আয়োজনকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ও আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি।

দেশটির গণমাধ্যম এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো খামেনির কফিন ইসলামী প্রজাতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিক স্থান গ্র্যান্ড মোসাল্লায় নেওয়া হচ্ছে। দাফনের আগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কালো পোশাক পরিহিত ব্যক্তিদের কফিন নামিয়ে রাখতে দেখা যায়। পুরো স্থানটি লাল ফুল এবং উড়ন্ত সাদা প্রজাপতির প্রতীকী সাজসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

দেশটিতে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রাথমিকভাবে খামেনির দাফন কার্যক্রম বিলম্বিত হয়েছে। আগামী সপ্তাহে কোম ও মাশহাদে বড় শোভাযাত্রা এবং ইরাকের বিভিন্ন শহরে নানা কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে। সংঘাত বন্ধে একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে বিহারের গভর্নর সৈয়দ আতা হাসনাইন এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গারিটা উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া চীন, আফগানিস্তান এবং ককেশাস অঞ্চলে ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন বলে জানানো হয়েছে।

ইরানের রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বাসভবনে হামলায় ৮৬ বছর বয়সে খামেনি নিহত হন। তার মরদেহ তিন দিন গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাখা হবে। এটি দেশটির ইতিহাসের বৃহত্তম রাষ্ট্রীয় দাফন কার্যক্রম হতে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তেহরানের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে মরদেহ ইরাকের পবিত্র শহর নজফ ও কারবালায় নেওয়া হবে। এরপর আগামী ৯ জুলাই উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে ইমাম রেজার মাজারে তাকে দাফন করা হবে।

গণরায়ের প্রতীক

খামেনির মৃত্যুর চার মাসেরও বেশি সময় পর অনুষ্ঠিত এই দাফন প্রক্রিয়ার একটি প্রতীকী তাৎপর্য রয়েছে। ইরানের শাসকগোষ্ঠী এটিকে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতি জনসমর্থন ও প্রকাশ্য আনুগত্যের প্রদর্শন হিসেবে দেখছে। একই সঙ্গে তারা এটিকে দেশটির বিপ্লবী চেতনা এখনও অটুট থাকার প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করছে।

বিজ্ঞাপন

কোম শহরের জুমার নামাজের ইমাম আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ সাইদি বলেন, শহীদ নেতা ও অন্যান্য শহীদদের জানাজায় বিপুল জনসমাগম ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতি জনগণের আরেকটি গণরায় হিসেবে বিবেচিত হবে।

আয়াতুল্লাহ খামেনি শুধু একজন রাষ্ট্রপ্রধানই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন প্রভাবশালী শিয়া ধর্মগুরুও। ইরাক, পাকিস্তান, লেবাননসহ বিভিন্ন দেশের বহু শিয়া মুসলমান তাকে অনুসরণ করতেন। এসব দেশের শিয়া সমাবেশে প্রায়ই তার প্রতিকৃতি দেখা যেত।

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় তেহরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ খামেনির জানাজা নিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আপনাদের উপস্থিতির মাধ্যমে ইরানের ইতিহাসে একটি গৌরবময় অধ্যায় রচিত হবে। এর মাধ্যমে জাতির প্রতিশোধের স্পৃহা সমগ্র বিশ্বের কাছে প্রতিধ্বনিত হবে।’

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও সব জাতি, ধর্ম ও রাজনৈতিক মতাদর্শের ইরানিদের জানাজায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আপনাদের ব্যাপক উপস্থিতি সন্ত্রাসবাদ, সহিংসতা ও জবরদস্তির বিরুদ্ধে একটি চূড়ান্ত জবাব হবে। একই সঙ্গে বিশ্বের কাছে এটি একটি স্পষ্ট বার্তা দেবে যে, ইরানি জাতি তার স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ।’

দাফন প্রক্রিয়া কেন বিলম্বিত হচ্ছে

বিজ্ঞাপন

খামেনির মৃত্যুর চার মাসেরও বেশি সময় পর তার দাফন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইসলামী সংস্কৃতি অনুযায়ী এটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক। এই বিলম্ব তার মৃত্যুর পর ইরানের সম্মুখীন হওয়া অসাধারণ পরিস্থিতিরই প্রতিফলন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, খামেনির মরদেহ সাময়িকভাবে দাফন করা হয়েছিল বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে ইরানের কর্মকর্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের তীব্র ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণেই দাফন বিলম্বিত হয়েছে। খামেনির মরদেহ ধর্মীয় বিধান মেনেই সংরক্ষণ করা হয়েছিল।

সন্ত্রাসবাদবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডক্টর মোহাম্মদ ওমর ফক্স নিউজ ডিজিটালকে জানান, খামেনির মরদেহ সম্ভবত বিশেষ শীতল সংরক্ষণাগারে রাখা হয়েছিল। ইসলামে রাসায়নিক উপায়ে মরদেহ সংরক্ষণ নিষিদ্ধ হওয়ায় এ ধরনের কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়নি।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, শিয়া ধর্মীয় আইনে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে দাফন বিলম্বিত করা এবং শীতল পরিবেশে মরদেহ সংরক্ষণের অনুমতি রয়েছে। ইরানের ফরেনসিক মর্গে প্রয়োজন হলে মরদেহ কয়েক মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হয়। ফলে চার মাস মরদেহ সংরক্ষণ করে রাখার ঘটনাকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

সূত্র: এনডিটিভ

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD