Logo

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে বিপুল এলাকা দখলের অনুমোদন দিল ইসরায়েল

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৪ জুলাই, ২০২৬, ১৩:৪৬
ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে বিপুল এলাকা দখলের অনুমোদন দিল ইসরায়েল
ছবি: সংগৃহীত

অধিকৃত পশ্চিম তীর এলাকায় নতুন করে ১৩টি বসতি স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েল। এ বিষয়ে দেশটির নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা। শুক্রবার (৩ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে নিউ আরব নিউজ।

বিজ্ঞাপন

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের মতে, নতুন বসতি স্থাপনের এ উদ্যোগ পশ্চিম তীরের ভৌগোলিক বিভাজন আরও বাড়াবে এবং অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমকে আরও বিচ্ছিন্ন করে তুলবে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ৭-এর তথ্য অনুযায়ী, মন্ত্রিসভা বৃহস্পতিবার পশ্চিম তীরের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে অবস্থিত বৃহৎ বসতি এলাকা বিনিয়ামিন আঞ্চলিক পরিষদে নতুন বসতি নির্মাণের অনুমোদন দেয়। পরিকল্পনার প্রথম ধাপে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে চার থেকে ছয়টি নতুন বসতি স্থাপনের কাজ শুরু হতে পারে। পাশাপাশি বিদ্যমান কয়েকটি বসতি চৌকিকেও আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ প্রকল্পে প্রায় ১ বিলিয়ন শেকেল বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বসতিগুলো সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি সড়ক, বিদ্যুৎ ও পানিসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত সুবিধা পাবে। এছাড়া কয়েকটি বিদ্যমান পশুপালন কেন্দ্রও আনুষ্ঠানিক আইনি মর্যাদা লাভ করবে।

এদিকে, প্যালেস্টাইনিয়ান সেন্টার ফর ইসরায়েলি স্টাডিজ (মাদার) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশ্চিম তীরে বসতি চৌকি স্থাপনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বছরে গড়ে আটটি বসতি চৌকি স্থাপন করা হলেও ২০২৩ সালে তা বেড়ে ৩২টি, ২০২৪ সালে ৬২টি এবং ২০২৫ সালে ৮৬টিতে পৌঁছায়।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বসতি সম্প্রসারণে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নও বেড়েছে। ২০২৩ সালে এ খাতে ২৮ মিলিয়ন শেকেল এবং ২০২৪ সালে ৭৫ মিলিয়ন শেকেল বরাদ্দ দেওয়া হয়। পাশাপাশি মোট ৭০টি বসতি চৌকিতে অর্থায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর ইসরায়েলের দখলে থাকা পূর্ব জেরুজালেমসহ পশ্চিম তীরের বিভিন্ন বসতিতে সাত লাখের বেশি ইসরায়েলি বসবাস করছেন। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এসব বসতি অবৈধ বলে বিবেচিত।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের দাবি, বসতি সম্প্রসারণের কারণে দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রস্তাব ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের মতামতেও এসব বসতির কোনো আইনি বৈধতা নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সূত্র: নিউ আরব নিউজ

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD