Logo

এবার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান কার্যালয় দখল করল বিদ্রোহীরা

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৪ জুলাই, ২০২৬, ১৪:১১
এবার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান কার্যালয় দখল করল বিদ্রোহীরা
ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব নিয়ে চলমান দ্বন্দ্বের মধ্যেই কলকাতার মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থিত দলের প্রধান কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বিদ্রোহী শিবির। নিজেদের ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস’ দাবি করে শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একদল নেতা-কর্মী কার্যালয়ে প্রবেশ করে নিয়ন্ত্রণ নেয়।

বিজ্ঞাপন

ঋতব্রতের সঙ্গে এ সময় উপস্থিত ছিলেন আখতারুজ্জামান, ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ খান, গোলাম রব্বানী, প্রসূণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও বিধায়ক।

ঘটনার সময় কার্যালয়ে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সাবেক মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। বিদ্রোহী নেতারা ভবনে প্রবেশ করলে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে যান।

বিজ্ঞাপন

এর কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে পৌঁছান মমতাপন্থি নেতা ও বিধায়ক কুনাল ঘোষ এবং তার সমর্থকেরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা সেখানে মোতায়েন হন। কার্যালয় দখলের বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় কুনাল ঘোষকে।

তিনি জানান, পুরো পরিস্থিতি বুঝে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, ২০২৭ সাল পর্যন্ত ভবনটি ব্যবহারের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের বৈধ চুক্তি রয়েছে।

তবে পুলিশ জানিয়ে দেয়, তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। বৈধভাবে তালা খুলে প্রবেশ করলে তাদের কোনো আপত্তি নেই।

বিজ্ঞাপন

কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর বিদ্রোহী শিবির ভবনের পুরোনো ব্যানার সরিয়ে নতুন ব্যানার টাঙায়। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তে হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে দলের নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

বিদ্রোহী শিবিরের জ্যেষ্ঠ নেতা আখতারুজ্জামান বলেন, এই কার্যালয় তৃণমূল কংগ্রেসের ঐতিহ্য ও আবেগের অংশ। তাই এটি তাদেরই কার্যালয়। তিনি আরও জানান, ভবনের মালিকের সঙ্গে ভাড়া ও অন্যান্য বিষয়েও তাদের আলোচনা হয়েছে।

গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসে নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একদল বিধায়ক বিদ্রোহ ঘোষণা করলে দলীয় বিভাজন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

বিজ্ঞাপন

এর ধারাবাহিকতায় গত ২১ জুন কলকাতার নিউ টাউনের একটি হোটেলে বৈঠক করে বিদ্রোহী শিবির নতুন জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করে এবং অরূপ রায়কে চেয়ারম্যান ঘোষণা করে।

এদিকে কুনাল ঘোষ অভিযোগ করেছেন, রাজ্য সরকার ও পুলিশের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এই কার্যালয় দখলের ঘটনা ঘটেছে। তার ভাষ্য, বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির ‘বি-টিম’ হিসেবে কাজ করছেন।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, ভবনটির মালিক মনোতোষ সাহার (মন্টু সাহা) সঙ্গে যোগাযোগ করেই বিদ্রোহী শিবির কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নেয়। সাম্প্রতিক সময়ে ভবনটির ব্যবহার ও মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল।

সূত্র: আনন্দবাজার

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD