Logo

মমতা আর নিজেকে তৃণমূলের প্রধান হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন না

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৩ জুলাই, ২০২৬, ২০:৫২
মমতা আর নিজেকে তৃণমূলের প্রধান হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন না
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপাতত নিজেকে দলের প্রধান হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন না। একই সঙ্গে তিনি দলের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা, দলের নামে কোনো নির্দেশ জারি কিংবা সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণও করতে পারবেন না। আলিপুর আদালত এক অন্তর্বর্তী আদেশে এ নির্দেশ দিয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক এক নেত্রীর করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই আদেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

মামলাটি করেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক নেত্রী, কলকাতা পৌর করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর এবং পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের স্ত্রী জুঁই বিশ্বাস। তিনি ইতোমধ্যে তৃণমূল ছেড়ে বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গঠিত নতুন তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে দুর্নীতির মামলায় স্বরূপ বিশ্বাস বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

নতুন তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদেরই প্রকৃত তৃণমূল বলে দাবি করছে। দলটির দাবি, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৫ জন ইতোমধ্যে তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। রোববার (১২ জুলাই) ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, চাইলে তারা এখনই বিধায়কের সংখ্যা ৭৫-এ উন্নীত করতে পারেন। তবে সবাইকে দলে নেওয়ার পরিকল্পনা তাদের নেই।

আলিপুর আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছেন, বিক্ষুব্ধ নেতাদের গঠিত নতুন তৃণমূলের ওয়ার্কিং কমিটির কার্যক্রমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনো ধরনের বাধা দিতে পারবেন না। এছাড়া দলীয় নিয়োগ, নির্দেশনা কিংবা অন্য কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রমেও তিনি হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া আদালত বলেছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের পুরোনো ব্যাংক হিসাব পরিচালনার অধিকারও আপাতত মমতার থাকবে না। দলের অর্থ, নথিপত্র ও সম্পদের বিষয়ে তিনি কোনো সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ নিতে পারবেন না।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

জুঁই বিশ্বাসের করা এই মামলার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আলিপুর আদালতের নির্দেশ মেনেই তারা পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। তবে তৃণমূলের বিধায়ক আলিফা আহমেদ বলেন, আদালতের এই অন্তর্বর্তী আদেশ নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করবেন না। বিষয়টি দলীয়ভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

মামলায় জুঁই বিশ্বাস অভিযোগ করেন, অবিভক্ত তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় তহবিলের অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি দলের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নষ্ট বা পরিবর্তনের আশঙ্কাও রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হলে আদালত অন্তর্বর্তী আদেশ দেন।

তবে এই আদেশ দেওয়ার আগে আদালত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষের বক্তব্য শোনেননি। জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করা হয়েছে বলে আদালত উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের বৈধতা সম্পর্কিত বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান বিচারক।

এ মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনবেন আদালত।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD