Logo

ভারতে বন্ধ করে দেওয়া হলো ১৩৬ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী মসজিদ

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৩ জুলাই, ২০২৬, ১৪:৫৪
ভারতে বন্ধ করে দেওয়া হলো ১৩৬ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী মসজিদ
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় অবস্থিত ১৩৬ বছরের পুরোনো একটি ঐতিহ্যবাহী মসজিদে মুসল্লিদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভেতরে অবস্থিত গৌরীপুর জামে মসজিদে প্রবেশের জন্য নতুন করে এন্ট্রি পাস দেওয়া বন্ধ করায় সেখানে নামাজ আদায়ও বন্ধ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় নিরাপত্তা ও বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে রেখে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে মসজিদ পরিচালনা কমিটির দাবি, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলমান থাকা অবস্থায় মুসল্লিদের প্রবেশ বন্ধ করার কোনো প্রয়োজন ছিল না।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

কলকাতা বিমানবন্দরের ভেতরে অবস্থিত গৌরীপুর জামে মসজিদটি ‘বাঁকড়া মসজিদ’ নামেও পরিচিত। প্রায় ১৩৬ বছরের পুরোনো এই মসজিদটি স্থানান্তরের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। বিমানবন্দরের দুটি রানওয়ের মধ্যে অপেক্ষাকৃত ছোট রানওয়ের খুব কাছেই এর অবস্থান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধান রানওয়ে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ থাকলে বড় উড়োজাহাজকে দ্বিতীয় রানওয়ে ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু মসজিদের অবস্থানের কারণে সেই রানওয়ে সম্প্রসারণে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, এটি উড়োজাহাজের নিরাপদ ওঠানামার ক্ষেত্রেও ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।

এ পরিস্থিতিতে গত শনিবার থেকে মসজিদে প্রবেশের জন্য নতুন এন্ট্রি পাস দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে সেখানে নিয়মিত নামাজ আদায়ও বন্ধ রয়েছে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাঁর ভাষ্য, কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অবস্থান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাইরের মানুষের অবাধ প্রবেশের সুযোগ রাখা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, সরকার কারও ধর্মীয় অনুশীলনে বাধা দিচ্ছে না। আইন মেনে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ধর্মকে ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবেই পালন করা উচিত।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও এই সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই মসজিদটির কারণে রানওয়ে সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর দাবি, আগের সরকারগুলো এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। বর্তমান সরকার মসজিদটি অন্যত্র স্থানান্তরের উদ্যোগ নেবে।

বিজ্ঞাপন

দমদম উত্তর আসনের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদার বলেন, বিমানবন্দরের উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় মসজিদটির অবস্থান নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে। তাঁর অভিযোগ, নামাজ পড়তে আসা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিমানবন্দরের সাধারণ নিরাপত্তা যাচাইয়ের নিয়ম সবসময় কার্যকর হয় না। অথচ এটি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা অঞ্চল ‘লেভেল-৩’-এর মধ্যে অবস্থিত।

তিনি আরও দাবি করেন, প্রতি মাসে লাখো যাত্রীর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এই বিমানবন্দর ব্যবহার করেন। তাই নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের আরেক মন্ত্রী দিলীপ ঘোষও বলেন, রানওয়ের ভেতরে মসজিদটির অবস্থানের কোনো যৌক্তিকতা নেই। তাঁর মতে, জায়গাটি খালি করা গেলে রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ নির্বিঘ্নে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাবেক মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেন, ১৩৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে মসজিদটি সেখানে রয়েছে এবং এ বিষয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছিল। সেই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই মুসল্লিদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত।

সূত্র: এনডিটিভি ও পিটিআই

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD