এক ঘণ্টার ব্যবধানে ইরানের ৮ স্থানে মার্কিন হামলা

ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে একের পর এক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত রাতে মাত্র এক ঘণ্টারও কম সময়ে প্রদেশটির অন্তত আটটি স্থানে হামলার খবর পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (১৩ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলাগুলো খুজেস্তান প্রদেশের একাধিক শহরকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে এবং এতে বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।
খুজেস্তান প্রদেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক ডেপুটি গভর্নর ভালিওল্লাহ হায়াতি আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা আইএসএনএকে জানান, গত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মার্কিন বাহিনী প্রদেশজুড়ে অন্তত আটটি স্থানে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় জরুরি তৎপরতা শুরু হয়েছে।
আল জাজিরা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ১টা ৩৫ মিনিট থেকে ২টা ২০ মিনিটের মধ্যে ধাপে ধাপে এসব হামলা চালানো হয়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
হায়াতি বলেন, কর্মকর্তারা এখনো প্রতিটি এলাকার ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করছেন। তবে তিনি আহভাজ বিমানবন্দরে হামলার খবর অস্বীকার করে বলেন, শহরের কাছে বিমানবন্দরের উপকণ্ঠে দুটি হামলা হয়েছে।
এর আগে হায়াতি জানান, মাহশাহরের একটি কৃষি পানি পাম্পিং স্টেশনে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত উপসাগরীয় অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কার্যকর অবরোধের কারণে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এতে বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির চাপ বেড়েছে। নভেম্বরের আগাম নির্বাচনের আগে এ পরিস্থিতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
ইরান বলেছে, শনিবার বেশ কয়েকটি জাহাজ একটি ‘অননুমোদিত পথে’ নৌপথ অতিক্রমের চেষ্টা করেছিল। তাদের গতিপথ পরিবর্তনের জন্য বার্তা দেওয়া হলেও তারা তা উপেক্ষা করে। এ ঘটনার পর হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
আইআরজিসি জানিয়েছে, অঞ্চলে মার্কিন হস্তক্ষেপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।
বিজ্ঞাপন
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, আইআরজিসির বিবৃতির প্রায় এক ঘণ্টা পর শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে তারা হামলা শুরু করে। ইরান তাদের বিবৃতিতে বলেছিল, কন্টেইনার জাহাজে হামলার জেরে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পদক্ষেপ নিলে মধ্যপ্রাচ্যে ‘শত্রুদের নতুন ঘাঁটি’ লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড আরও জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই এই হামলা পরিচালিত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
সূত্র: আল জাজিরা








