Logo

ইউরোপে ৮ দিনে প্রাণ গেল ১০ হাজারের বেশি মানুষের

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৩ জুলাই, ২০২৬, ১৪:০২
ইউরোপে ৮ দিনে প্রাণ গেল ১০ হাজারের বেশি মানুষের
ছবি: সংগৃহীত

গত জুন মাসের শেষ দিকে ইউরোপজুড়ে বয়ে যাওয়া টানা আট দিনের তীব্র তাপপ্রবাহে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ইউরোপভিত্তিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউরোমোমো রবিবার (১২ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ইউরোমোমো মূলত ইউরোপের ২৭টি দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং জাতিসংঘের বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বিষয়ক অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) দ্বারা পরিচালিত একটি জরিপ সংস্থা। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২০ জুন থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত টানা আট দিনের ভয়াবহ তাপপ্রবাহের প্রভাবেই ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৭টি দেশে ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে প্রায় ৯ হাজার জনের বয়স ৬৫ বছর বা তারও বেশি ছিল। অর্থাৎ প্রবীণরাই এই তাপপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

মৃতদের অধিকাংশই ‘হিট-স্ট্রোক’ বা গরমজনিত কারণে হৃদযন্ত্র-শ্বাসতন্ত্র ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন। 

বিজ্ঞাপন

ইউরোমোমার অন্যতম কর্মকর্তা এবং ডেনমার্কের স্ট্যাটেন্স সেরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান চিকিৎসক লাসে ভেস্টারগার্ড রয়টার্সকে বলেন, তাদের মৃত্যু হয়েছে তাপপ্রবাহের ফলে সৃষ্ট প্রচণ্ড গরমের কারণে। এর আর কোনো ব্যাখ্যা নেই। মৃতের এই সংখ্যা সত্যিই অনেক বেশি এবং বছরের এমন সময়ে এত অল্প সময়ের মধ্যে এত সংখ্যক মৃত্যু মোটেও স্বাভাবিক নয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কোন দেশে কতজনের মৃত্যু হয়েছে— সে সম্পর্কে নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি ইউরোমোমোর প্রতিবেদনে, তবে বলা হয়েছে— এই মৃতদের একটি বড় অংশই ফ্রান্স এবং বেলজিয়ামের।

বিজ্ঞাপন

সরকারি তথ্য বলছে, গরম ও তাপপ্রবাহ জনিত কারণে ইইউভুক্ত কয়েকটি রাষ্ট্রে সম্মিলিতভাবে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৫০০ জনের মৃত্যু হচ্ছে। গত ৮ সপ্তাহ ধরে চলছে এই অবস্থা।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ বিষয়ক অঙ্গসংস্থা ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোলের (ইসিডিপিসি) রেকর্ড থেকে জানা গেছে, ইউরোপে এক সপ্তাহে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছে করোনা মহামারির সময়। ২০২০ সালের মে-জুন মাসে মহামারির চূড়ান্ত সময়ে এক সপ্তাহে ১ হাজারি ৬৫০ জনের অধিক মৃত্যু দেখেছিল ইউরোপ।

এদিকে ইউরোপের জলবায়ুবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, জুনের এই ভয়াবহ তাপপ্রবাহের পেছনে মানুষসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের বড় ভূমিকা রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, বৈশ্বিক উষ্ণতা বর্তমান হারে বাড়তে থাকলে আগামী বছরগুলোতেও ইউরোপে এ ধরনের তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ বারবার ফিরে আসতে পারে।

বিজ্ঞাপন

সূত্র : রয়টার্স

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD