তিতাসের মঙ্গলকান্দিতে ১৬৫ বছরের প্রাচীন জামে মসজিদ

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার সাতানী ইউনিয়নের মঙ্গলকান্দি উত্তরপাড়া গ্রামে প্রায় ১৬৫ বছর ধরে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় স্মৃতির সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি প্রাচীন জামে মসজিদ।
বিজ্ঞাপন
১৮৬২ সালে নির্মিত এই মসজিদটি সময়ের নানা প্রতিকূলতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করেও আজও টিকে আছে নিজস্ব ঐতিহ্য নিয়ে। স্থানীয়দের কাছে এটি শুধু একটি উপাসনালয় নয়, বরং এলাকার ইতিহাস ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এলাকার ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি বেলু সরকার ১৮৬২ সালে মসজিদটি নির্মাণ করেন। দেড় শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে অসংখ্য মানুষ এখানে নামাজ আদায় করেছেন। সময়ের পরিবর্তনে এর ব্যবহার কিছুটা বদলালেও প্রাচীন স্থাপনাটি সংরক্ষণ করা হয়েছে পূর্বপুরুষদের স্মৃতি ধরে রাখতে।
গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা মো. দুলাল সরকার (৬৭), মো. সিরাজ মিয়া (৬৮), মিজানুর রহমান ভূঁইয়া (৫৮), রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া (৫৭) ও মো. শাহ আলম ভূঁইয়া (৭০) জানান, তাঁদের পূর্বপুরুষদের মুখে শোনা একটি লোকবিশ্বাস আজও এলাকায় প্রচলিত রয়েছে। সেই বিশ্বাস অনুযায়ী, একসময় এই মসজিদে জিনেরা ইবাদত করতেন।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রায় ৪০ বছর আগে গ্রামের ধর্মপ্রাণ আলাউদ্দিন এশার নামাজের পর মসজিদে ইবাদতরত অবস্থায় এমন কিছু অনুভব করেছিলেন, যা থেকে তিনি ধারণা করেছিলেন এখানে জিনেরা ইবাদত করতে আসেন। একইভাবে প্রায় ৫০ বছর আগে রোস্তম আলী ভূঁইয়াও তাহাজ্জুদের নামাজ আদায়ের সময় অনুরূপ অভিজ্ঞতার কথা মানুষের কাছে বর্ণনা করেছিলেন। তবে এসব ঘটনার কোনো ঐতিহাসিক বা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই; এগুলো স্থানীয়দের মুখে মুখে প্রচলিত লোকবিশ্বাস।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ছয় বছর আগে প্রাচীন মসজিদের পাশেই একটি নতুন জামে মসজিদ নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নতুন মসজিদে আদায় করা হলেও পুরোনো মসজিদে শিশুদের কোরআন শিক্ষা ও মক্তব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
প্রায় তিন শতাংশ জমির ওপর নির্মিত এই ঐতিহাসিক মসজিদটি ভেঙে ফেলা হয়নি। বরং এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মসজিদের উত্তর পাশে একসময় একটি বড় পুকুর ছিল। পরে সেটি ভরাট করে নতুন মসজিদ নির্মাণ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
ব্যবহারের ধরন বদলে গেলেও মঙ্গলকান্দির এই প্রাচীন মসজিদ আজও ইতিহাস, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও লোককথার এক অনন্য প্রতীক হয়ে আছে। এলাকাবাসীর দাবি, শতবর্ষী এই স্থাপনাটি সংরক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে সরকারিভাবে মসজিদটির সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।








