তিতাস নদীতে বালু ভরাটের অভিযোগ, কাঠগড়ায় এনসিপির সাবেক নেতা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীর একটি অংশ ভরাটের অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সাবেক জেলা আহ্বায়ক আজিজুর রহমান লিটনের বিরুদ্ধে। শহরের উত্তরে মেড্ডা শ্মশানঘাট সংলগ্ন সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের কাশিনগর এলাকায় নদীর পাড় ও সংলগ্ন স্থানে বালু ফেলে ভরাটের কাজ চলছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রথমে এক্সকাভেটর দিয়ে নদীর পাড় ও সংলগ্ন নিম্নভূমি উঁচু করা হয়। পরে গত কয়েকদিন ধরে বাল্কহেডে করে মেঘনা নদী থেকে বালু এনে ওই এলাকায় ভরাট করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নদী ও জলাশয় সুরক্ষাবিষয়ক সামাজিক সংগঠন ‘ঢেউ’। সংগঠনটির নেতারা বলেন, প্রশাসনের নীরবতা ও উদাসীনতার কারণে তিতাস নদী দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে নদীটি অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে। একই সঙ্গে অন্যান্য ছোট নদীও দখল ও ভরাটের ঝুঁকিতে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগের বিষয়ে এনসিপির সাবেক জেলা আহ্বায়ক আজিজুর রহমান লিটন বলেন, “নদী ভরাট করা হচ্ছে না। নদীর পাড়সংলগ্ন জায়গাটি আমার নিজস্ব জমি। আমার জমি থেকে প্রায় ২০ ফুট দূরে বালু ফেলা হচ্ছে।” তিনি দাবি করেন, এলাকাটি বাণিজ্যিকভাবে উন্নয়ন করে শিল্পকারখানা স্থাপন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
তবে নদীর তীরবর্তী জমি ভরাট বা শিল্পকারখানা নির্মাণের জন্য প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এ বিষয়ে কোনো সরকারি দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয়ের উপপরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এছাড়া ভৈরব-আশুগঞ্জ নৌবন্দর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশতিয়াক মো. সিফাত বলেন, বিষয়টি তিনি জেনেছেন এবং খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ বলেন, নদী ভরাটের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ সত্য হলে দ্রুত ভরাট কার্যক্রম বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।








