Logo

ইসরায়েলে সরাসরি তেল রফতানি বন্ধ করেছে ব্রাজিল

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৬ জুলাই, ২০২৬, ১৪:০৩
ইসরায়েলে সরাসরি তেল রফতানি বন্ধ করেছে ব্রাজিল
ছবি: সংগৃহীত

২০২৫ সালে ইসরায়েলে কোনো ধরনের সরাসরি অপরিশোধিত তেল রফতানি করেনি ব্রাজিল। দেশটির ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম এজেন্সির (এএনপি) ২০২৬ সালের বার্ষিক পরিসংখ্যান প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত জুনের শেষ দিকে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের তথ্যকে ইসরায়েলবিরোধী বয়কট আন্দোলনের কর্মীরা তাদের প্রচারণার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছেন।

বিজ্ঞাপন

ফিলিস্তিনপন্থি আন্তর্জাতিক জোট বয়কট, ডাইভেস্টমেন্ট অ্যান্ড স্যাংশনস (বিডিএস) দাবি করেছে, ব্রাজিল সরকার ও বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের ওপর ধারাবাহিক জনচাপের ফলেই সরাসরি তেল রফতানি বন্ধ হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বিডিএস জানায়, ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতা কমানোর ক্ষেত্রে এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। তাদের ভাষ্য, সাধারণ মানুষ ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর চাপই ব্রাজিলকে আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনের পথে এগোতে বাধ্য করেছে।

তবে সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, সরাসরি রফতানি বন্ধ হলেও বিকল্প পথে তেল সরবরাহের সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়নি। তাই এ বিষয়ে তাদের প্রচারণা ও চাপ অব্যাহত থাকবে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান অয়েল চেঞ্জ ইন্টারন্যাশনাল-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ইসরায়েলে অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে ব্রাজিল ছিল পঞ্চম। সে সময় ইসরায়েলের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৯ শতাংশই এসেছিল ব্রাজিল থেকে। একই বছর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন থাকলেও ব্রাজিল ইসরায়েলের চতুর্থ বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল রফতানিকারক দেশে পরিণত হয়।

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে দেশটির বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তোলেন এবং এর তুলনা নাৎসি বাহিনীর ইহুদি নিধনের সঙ্গে করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল তাকে অবাঞ্ছিত ব্যক্তি ঘোষণা করে। পরে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ব্রাজিল আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে দক্ষিণ আফ্রিকার করা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যা মামলায় আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানায় এবং ইসরায়েল থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে।

এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে ব্রাজিলের দুটি বৃহৎ তেল শ্রমিক ফেডারেশন প্রেসিডেন্ট লুলার কাছে চিঠি দিয়ে ইসরায়েলের ওপর তেল নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানায়। তবে সে সময় সরকার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, ব্রাজিলের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পেত্রোব্রাস বরাবরই দাবি করে আসছে, তারা ইসরায়েলে সরাসরি কোনো অপরিশোধিত তেল রফতানি করেনি। কোম্পানিটির ভাষ্য, তারা কেবল বিদেশি শোধনাগারের কাছে তেল বিক্রি করে থাকে এবং পরিশোধিত পণ্যের চূড়ান্ত গন্তব্য তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না।

তবে বিডিএস আন্দোলনের মতে, তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে পুনরায় বিক্রি হয়ে যদি ব্রাজিলের তেল ইসরায়েলে পৌঁছে, তবুও আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে ব্রাজিল দায় এড়াতে পারে না। কারণ একটি দেশের দায়বদ্ধতা নির্ধারিত হয় সরবরাহে তার জ্ঞান ও বাস্তব অবদানের ভিত্তিতে, পণ্য কোন পথে গন্তব্যে পৌঁছেছে তার ওপর নয়।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD