Logo

হরমুজের পর আরও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধের হুঁশিয়ারি দিল ইরান

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৫ জুলাই, ২০২৬, ১৮:৩৭
হরমুজের পর আরও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধের হুঁশিয়ারি দিল ইরান
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে পুনরায় নৌ অবরোধ আরোপের পর আরও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর। বাহিনীটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য রপ্তানি করিডোরও প্রয়োজনে বন্ধ করে দেওয়া হবে। বুধবার (১৫ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর জানায়, এ অঞ্চলের জ্বালানি রপ্তানির পথ হয় সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে, নয়তো কারও জন্যই খোলা থাকবে না। বাহিনীটির এমন বক্তব্য নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এ হুমকির মাধ্যমে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের ব্যবহার করে লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের আরেকটি ফ্রন্ট তৈরি হতে পারে এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ এ প্রণালিটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। এ পথ দিয়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি এবং বৈশ্বিক নৌপরিবহনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পরিচালিত হয়।

বিজ্ঞাপন

ইরানের প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার হুথিদের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, সৌদি আরব ইয়েমেনে হামলা অব্যাহত রাখলে বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। এতে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলারে পৌঁছে যেতে পারে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

গত সোমবার হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি বিমানবন্দরে বোমা হামলার দায়ে সৌদি আরবকে অভিযুক্ত করেছে গোষ্ঠীটি। এর জেরে তারা সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এর মাধ্যমে সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটির মধ্যে চলা চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেছে।

বিজ্ঞাপন

হুথিরা ইতিমধ্যেই বাব আল-মান্দেব প্রণালির মাধ্যমে বিশ্ব বাণিজ্য ব্যাহত করার সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তারা লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর হামলা চালায়। সে সময় গোষ্ঠীটি দাবি করে, ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

আইআরজিসি জানিয়েছে, ‘আমেরিকার অপকর্মের অবসান’ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ প্রতিদিন হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করত।

বাহিনীটি জানিয়েছে, প্রণালিতে সর্বশেষ মার্কিন হামলার জবাবে তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল, রসদ, জ্বালানি ও সামরিক সরঞ্জামসংক্রান্ত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

বিজ্ঞাপন

আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, কুয়েতের মিনা আবদুল্লাহ এলাকায় অবস্থিত একটি মার্কিন রসদকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে। এতে আগুন ধরে কেন্দ্রটি ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া জর্ডানের আজরাকে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটির বিমান হ্যাঙ্গারগুলোও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। বাহিনীটি দাবি করেছে, জর্ডানের ভূখণ্ডে অবস্থিত ঘাঁটিগুলো থেকেই কয়েকটি মার্কিন হামলা চালানো হয়েছিল।

অন্যদিকে, বুধবার কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি স্থানে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে সেটি ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের দাবিকৃত একই স্থাপনা কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সূত্র: রয়টার্স

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD