কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে বিশ্বনেতাদের শোকজ্ঞাপনের ঢল

কাতারের সাবেক আমির ও ‘ফাদার আমির’ শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি মৃত্যুর পর দেশটিতে বিশ্বনেতাদের শোকজ্ঞাপনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, রাজপরিবারের সদস্য এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা দোহায় গিয়ে বা বার্তা পাঠিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোকপর্বে রাজধানী দোহার লুসাইল প্রাসাদে শোকগ্রহণ করছেন বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি।
বিজ্ঞাপন
রবিবার ৭৪ বছর বয়সে মারা যান শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি। ১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাতারের শাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তার শাসনামলেই জ্বালানি সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে কাতার অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করে। আধুনিক কাতার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় তিনি দেশটিতে ‘ফাদার আমির’ হিসেবে পরিচিত।
সোমবার থেকে শুরু হওয়া শোকপর্বে লুসাইল প্রাসাদে দেশি-বিদেশি অতিথিদের স্বাগত জানাচ্ছেন বর্তমান আমির শেখ তামিম। কাতারের শীর্ষ সরকারি দপ্তর আমিরি দিওয়ানের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত হয়ে শোক জানিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের নেতাদের শোক
বিজ্ঞাপন
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে বাহরাইনের যুবরাজ সালমান বিন হামাদ আল খলিফা সোমবার কাতারে গিয়ে শোক প্রকাশ করেন।
মঙ্গলবার সকালে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি শেখ হামাদের মৃত্যুতে সমবেদনা জানান।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান মঙ্গলবার দোহা সফর করে বর্তমান আমির শেখ তামিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ব্যক্তিগতভাবে শোক প্রকাশ করেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ খালিদ আল-হামাদ আল-সাবাহও সোমবার সকালে সমবেদনা জানান।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম সোমবার লুসাইল প্রাসাদে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। মঙ্গলবার দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনও একই স্থানে উপস্থিত হয়ে শোক প্রকাশ করেন।
বিজ্ঞাপন
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা শেখ হামাদের মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা জানিয়ে তাকে আল্লাহর রহমত কামনা করেন।
ইরাকের প্রেসিডেন্ট নিজার আমিদি এবং ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট নেচিরভান বারজানিও পৃথকভাবে লুসাইল প্রাসাদে গিয়ে শোক জানান।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ সাইফ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং আজমানের ক্রাউন প্রিন্স শেখ আম্মার বিন হুমাইদ আল নুয়াইমিও সমবেদনা জানান। এছাড়া আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ফোনে শেখ তামিমের সঙ্গে কথা বলে শোক প্রকাশ করেন।
বিজ্ঞাপন
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের গভর্নর প্রিন্স সৌদ বিন নায়েফ বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ কাতারে গিয়ে শোক জানান। একই সঙ্গে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান ফোনে শেখ তামিমের সঙ্গে কথা বলে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
ওমানের প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপপ্রধানমন্ত্রী সাইয়্যিদ শিহাব বিন তারিক আল সাইদ, মরক্কোর প্রধানমন্ত্রী আজিজ আখান্নুশ এবং লিবিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান আবদুল হামিদ দবেইবাহও শোক প্রকাশ করেন। পরে লিবিয়ার প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুস আল-ম্যানফিও প্রতিনিধি দল নিয়ে লুসাইল প্রাসাদে যান।
এছাড়া উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) মহাসচিব জাসেম মোহাম্মদ আলবুদাইউই এবং আরব লীগের মহাসচিব নাবিল ফাহমিও কাতারে গিয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
ইউরোপ থেকেও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি মঙ্গলবার শেখ তামিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শোক প্রকাশ করেন।
যুক্তরাজ্যের রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স এডওয়ার্ড, ডিউক অব এডিনবরো, বুধবার সকালে দোহায় পৌঁছে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে সমবেদনা জানান।
বিজ্ঞাপন
সুইজারল্যান্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইগনাজিও ক্যাসিসও লুসাইল প্রাসাদে গিয়ে শোক প্রকাশ করেন।
আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও কাতারে গিয়ে শেখ হামাদের মৃত্যুতে সমবেদনা জানান এবং বর্তমান আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
আফ্রিকার রাষ্ট্রপ্রধানদের শোক
মরিতানিয়ার প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ উলদ গাজোয়ানি, কোমোরোসের প্রেসিডেন্ট আজালি আসৌমানি, রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট পল কাগামে এবং ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ পৃথকভাবে দোহায় গিয়ে অথবা আনুষ্ঠানিকভাবে শোক প্রকাশ করেছেন।
এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সোমবার লুসাইল প্রাসাদে গিয়ে সমবেদনা জানান।
ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সংসদীয় ও সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু মঙ্গলবার দোহা সফর করে আনুষ্ঠানিকভাবে শোকবার্তা পৌঁছে দেন।
মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু এবং কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ত তোকায়েভও শেখ তামিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যু শুধু কাতারের জন্য নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তার নেতৃত্বে কাতার আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছিল। তাই তার প্রয়াণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের ব্যাপক উপস্থিতি এবং শোকবার্তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার প্রভাব ও মর্যাদারই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তথ্য সূত্র: আল জাজিরা








