যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান, তবে আলোচনার পথও খোলা: ইরানের স্পিকার

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং দেশটির শীর্ষ কূটনৈতিক ব্যক্তিত্বদের একজন মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলায় ইরান প্রস্তুত রয়েছে। তবে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পথও খোলা রাখা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (১৫ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় ঘালিবাফ বলেন, ইরান কখনো যুদ্ধ চায়নি এবং এখনও যুদ্ধকে সমর্থন করে না। তবে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব সময় প্রস্তুত থাকা প্রয়োজন বলে মনে করে তেহরান।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় স্বার্থ অগ্রাধিকার দিয়ে কূটনীতি ও সংলাপকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং আলোচনার জন্য ইরানের দরজা সবসময়ই উন্মুক্ত রয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বিমান হামলা শুরু করলে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতের সূচনা হয়। টানা ৪০ দিনের লড়াইয়ের পর ৭ এপ্রিল উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
বিজ্ঞাপন
পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৭ জুন ইসলামাবাদে একটি সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে দুই দেশ। ওই চুক্তিতে মোট ১৪টি শর্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর মধ্যে অন্যতম ছিল, ইরান হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার করবে এবং বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ ও তেল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে।
তবে চুক্তি কার্যকরের অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। গত ৫ জুলাই হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে ৭ জুলাই ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এরপর ১১ জুলাই থেকে দুই দেশের মধ্যে আবারও হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে।
এদিকে, বুধবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়েই জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে কোনো আলোচনার পরিকল্পনা নেই। তার ভাষ্য, এই মুহূর্তে ইরানের প্রধান অগ্রাধিকার দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।








