Logo

বাংলাদেশে বিয়ের নামে প্রতারণা, নিজ নাগরিকদের যে বার্তা দিল চীন

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৬ জুলাই, ২০২৬, ১৮:১২
বাংলাদেশে বিয়ের নামে প্রতারণা, নিজ নাগরিকদের যে বার্তা দিল চীন
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে অবস্থানরত চীনা নাগরিকদের অবৈধ ঘটকালি বা দালালের মাধ্যমে বিয়ের প্রক্রিয়ায় জড়াতে কঠোরভাবে সতর্ক করেছে ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাস। দূতাবাস জানিয়েছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়ালে মানব পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় দূতাবাস জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে চীনা নাগরিকদের জড়িয়ে আন্তঃসীমান্ত বিয়ের নামে প্রতারণার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এ কারণে সবাইকে অবৈধ ঘটকালি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

দূতাবাসের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বিয়ে অবশ্যই দুই পক্ষের স্বেচ্ছাসম্মতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও প্রকৃত ভালোবাসার ভিত্তিতে হওয়া উচিত। অর্থের বিনিময়ে ‘কনে কেনাবেচা’ বা বাণিজ্যিক ঘটকালি শুধু বেআইনি নয়, বরং এটি আর্থিক প্রতারণা, মানব পাচার এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের আইনের কথাও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে। মানব পাচারের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে ন্যূনতম সাত বছরের কারাদণ্ড ও কমপক্ষে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। অপরাধের ধরন অনুযায়ী শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কিংবা মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া মানব পাচারে প্ররোচনা বা সহায়তার মতো অপরাধেও তিন থেকে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চীনে বিয়োযোগ্য পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা কম হওয়ায় বিদেশি কনে খোঁজার প্রবণতা বেড়েছে। ২০২০ সালের জাতীয় আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বিয়ের বয়সী নারীর তুলনায় পুরুষের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ বেশি। এই বাস্তবতাকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতারক ও পাচারকারী চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

চীনা কর্তৃপক্ষ জানায়, বিদেশি নারীদের পাচার রোধের পাশাপাশি নিজেদের নাগরিকদের প্রতারণার হাত থেকেও সুরক্ষা দিতে তারা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর আগে ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, লাওস, পাকিস্তান ও নেপালে অবস্থিত চীনা দূতাবাস ও কনস্যুলেটও একই ধরনের সতর্কবার্তা জারি করেছিল।

বিজ্ঞাপন

দেশটির অভ্যন্তরেও মানব পাচার ও ভুয়া বিয়ের চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। চীনের সুপ্রিম পিপলস প্রোকিউরেটরেটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত মানব পাচার ও প্রতারণামূলক বিয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগে ১ হাজার ৫৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিভিন্ন ঘটনায় দেখা গেছে, বিপুল অর্থ ব্যয় করে বিদেশি নারীকে বিয়ে করার পর অনেক চীনা নাগরিক প্রতারণার শিকার হয়েছেন। আবার কিছু ক্ষেত্রে বিদেশি নারীদের অপহরণ বা প্রতারণার মাধ্যমে চীনে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক বিয়ে করানোর ঘটনাও সামনে এসেছে।

গত বছরের মার্চে মাদাগাস্কারে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীদের চীনে পাচারের অভিযোগে আটজন চীনা নাগরিককে আটক করা হয়। সম্প্রতি হুনান, আনহুই ও শানডং প্রদেশে পরিচালিত এক যৌথ অভিযানে তিন মিয়ানমারের নারী স্বীকার করেন, তারা বিয়ের নামে প্রতারণার উদ্দেশ্যে চীনে প্রবেশ করেছিলেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ওই অভিযানে ৬৩ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, ৩৩ জনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং ৫০ লাখ ইউয়ানের বেশি মূল্যের সম্পদ জব্দ করা হয়। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চীন, ভিয়েতনাম ও মিয়ানমারজুড়ে বিস্তৃত একটি আন্তঃদেশীয় নেটওয়ার্ক এই চক্র পরিচালনা করছিল।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD